অতিরিক্ত বালি বোঝাই লরি আটকে বিক্ষোভ

386

বর্ধমান: বালির অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তারপরও প্রশাসন বালির অবৈধ কারবার বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁষছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কোড়া গ্রামের বাসিন্দারা। বাঁধের রাস্তা দিয়ে দিনরাত বেপরোয়া গতিতে অতিরিক্ত বালি বোঝাই ট্রাক ও লরির যাতায়াত বন্ধের দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা বাঁচাতে ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি রুখতে ওভারলোডেড লরি আটকালেও পুলিশের সহযোগিতা মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে গণস্বাক্ষর সংবলিত অভিযোগ পত্র মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোড়া গ্রামের বাসিন্দারা।

কোড়া গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘সিন্ডিকেটের লোকজন মুইদিপুর সংলগ্ন এলাকায় বালি খাদান চালু করেছে। পুলিশ ও শাসক দলের লোকজনের মদতে সিন্ডিকেটের লোকজন সেই খাদান চালাচ্ছেন। ওই খাদান থেকে বালি বোঝাই করে প্রতিদিন শয়ে শয়ে ট্রাক ও লরি বাঁধের রাস্তায় উঠে চাপাডাঙ্গা হয়ে কলকাতা চলে যাচ্ছে।’

- Advertisement -

গ্রামবাসীরা এর প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত বালি বোঝাই একাধিক লরি আটকে রাখেন। সোমবারও প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। বালি বোঝাই লরি আটকানোর খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে আসে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, লরিগুলিতে অতিরিক্ত বালি বোঝাই থাকলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে লরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ চাপ সৃষ্টি করে।

যদিও গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ মানতে চাননি জ্যোৎশ্রীরাম অঞ্চলের তৃণমূল যুব নেতা রফিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, শাসক দলের মদতে মুইদিপুরে বালি খাদান চলছে বলে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। খাদান বৈধভাবে চলছে না অবৈধভাবে চলছে, সেটা প্রশাসনের দেখার বিষয়।

জামালপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘কোড়া এলাকার লোকজন দুর্গাপুজোর চাঁদার জন্য লরি আটকে ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। লরিগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের বলা হয়েছে, ওই এলাকার রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত বালি বোঝাই লরির যাতায়াত বাড়লে তা বিএলএলআরওকে জানাতে।’

জামালপুরের বিএলএলআরও পার্থ ঘোষ বলেন, ‘কোড়া গ্রামের বাঁধের রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত বালি বোঝাই লরি চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’