বেহাল রাস্তায় ধানের চারা বসিয়ে, মাছ ধরে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

363
বেহাল রাস্তায় ধানের চারা বসিয়ে ও জাল দিয়ে মাছ ধরে অভিনব বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ছবি: মুরতুজ আলম

সামসী: ভোট আসে ভোট যায়। কিন্তু রাস্তা পাকা হয় না। তাই বেহাল রাস্তায় ধানের চারা বসিয়ে ও জাল দিয়ে মাছ ধরে অভিনব প্রতিবাদ করল গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ভালুকা জিপির প্রত্যন্ত বোরনাহি(ইকবালপুর)গ্রামের ঘটনা।

গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বোরনাহি গ্রামের প্রায় দুই কিমি রাস্তা মধ্যযুগীয় দশায় ভুগছে। ভারত স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৩ বছর পরেও রাস্তা পাকা হয়নি। বর্ষাকালে জল জমে একাকার রাস্তা। হাঁটু সমান কাঁদা। কার্যত পুকুরের রূপ নিয়েছে। বর্ষা ছাড়া অন্য মরশুমেও বেহাল থাকে রাস্তাটি।

- Advertisement -

ওই গ্রামের আরও এক বাসিন্দা মহম্মদ সাকির বলেন, বর্ষায় জল-কাঁদায় ভরে থাকায় রাস্তা দিয়ে চলাচল যায় না। সাইকেল,বাইকসহ অন্যান্য যানবাহন দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলা দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে।

বোরনাহি গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলি বলেন, কৃষি নির্ভর এলাকা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে মাঠের ফসল বাড়িতে কিংবা বাড়ির ফসল হাটে-বাজারে নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে, রাস্তাটির বেহাল দশায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়াদের পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে অফিস কর্মচারীদের মধ্যে। স্বাস্থ্য কর্মী, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। ফলে মুমূর্ষ রোগীরা রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে চরম সমস্যায় পড়েন।

সিরাজুল ইসলাম নামে গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, বিডিও, এসডিও, ডিএম, জেলা পরিষদ, বিধায়ক, সাংসদদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু সব তরফেই মৌখিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া ছাড়া কিছুই হয়নি। তাই গ্রামবাসীদের ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার রাস্তায় ধানের চারা বসিয়ে ও জাল দিয়ে মাছ ধরে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হন শতাধিক গ্রামবাসী। পাকা রাস্তার দাবিতে প্রয়োজনে এলাকাজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে পারেন এলাকাবাসী এমনটাই জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

ভালুকা জিপির উপ প্রধান মজিবুর রহমান বলেন, পঞ্চায়েত থেকে ধাপে ধাপে রাস্তাটি পাকা করা হবে। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ বিডিও প্রীতম সাহা অবশ্য বলেন, পঞ্চায়েত থেকে ওই গ্রামের রাস্তা পাকা করার জন্য প্রকল্প নেওয়া। এলাকার বিধায়ক মোস্তাক আলম বলেন, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ সবই শাসকদলের। রাস্তা পাকা করার সদিচ্ছা থাকলে এক সপ্তাহেই হয়ে যাবে।