সংক্রমণ এড়াতে সাঁকো সিল করলেন গ্রামবাসীরা

প্রকাশ মিশ্র, মানিকচক : করোনা সংক্রমণ এড়াতে রতুয়া-২ ব্লক ও মানিকচকের সংযোগকারী সাঁকোতে অস্থায়ী পাঁচিল তুলে সিল করে দিলেন গ্রামবাসীরা।

মানিকচকে জেলার মধ্যে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ফলে গোটা জেলাকে এখন অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। মানিকচকের সংক্রমিত এলাকা চৌকি মিরদাদপুরের নারীদিয়াড়া। এর পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কালিন্দ্রী নদী। এখন শুখা মরশুমে জল নেই। পারাপারের জন্য রয়েছে সাঁকো। বাঁশের মাচা দিয়ে গ্রামবাসীরা তা তৈরি করেছেন। সড়কপথে মানিকচক থেকে রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙ্গায় আসতে গেলে অন্তত ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু এই সাঁকো দিয়ে কালিন্দ্রী নদী পেরিয়ে বাজার, দোকান, হাসপাতাল সব কিছু হাতের নাগালে পেয়ে যান বাসিন্দারা। সেই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন বাসিন্দারা

- Advertisement -

এ প্রসঙ্গে নারীদিয়াড়া এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অভিরাম মণ্ডলের বক্তব্য, খাতায়কলমে আমরা মানিকচক ব্লকের বাসিন্দা হলেও পড়াশোনা, চিকিৎসা, বাজার, রুজিরুটি সবই রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙ্গা অঞ্চলকে ঘিরে আবর্তিত হয়। মানিকচকে সংক্রমণ ধরা পড়ায় এখন সমস্ত কিছুই বন্ধ করে দিয়েছেন আড়াইডাঙ্গার গ্রামবাসীরা। সাঁকো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের কার্যত একঘরে করে দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের জীবনজীবিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

আড়াইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শেখ সফিউল বলেন, করোনা সংক্রমণ থেকে গ্রামবাসীদের বাঁচাতে সাঁকোর ওপরে বেড়া দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রামিত এলাকার কেউ ঢুকতে না পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা ফের খুলে দেওয়া হবে। প্রশাসন কার্যত তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, সংক্রমিত এলাকায় যাতে কেউ বাইরে থেকে ঢুকতে না পারেন, তার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে সাঁকো অস্থায়ীভাবে সিল করে গ্রামবাসীরা সঠিক পদক্ষেপই করেছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সংক্রমিত সন্দেহে মানিকচকে মঙ্গলবার ৯৪ জনের লালারস সংগৃহীত হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে এলাকার পরিষ্কার চিত্র বোঝা যাবে। এদিকে এখনও আক্রান্তের বাড়ির সামনে পুলিশি পিকেট রয়েছে, যাতে বহিরাগতরা আক্রান্তের বাড়িতে ঢুকতে না পারেন। আবার এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে য়েতে না পারেন। গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে এই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।