তেজস্ক্রিয় যন্ত্রের উত্তাপ উত্তরাখণ্ডে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী, দাবি বাসিন্দাদের

103
ছবি সংগৃহীত

দেহরাদুন: তেজস্ক্রিয় যন্ত্রের উত্তাপ উত্তরাখণ্ডে বিপর্যয়ের জন্য দায়ী বলে দাবি রাইনি এবং জুগজু গ্রামের বাসিন্দাদের। ১৯৬৫ সালে নন্দাদেবীতে একটি গোপন অভিযানে একটি তেজস্ক্রিয় যন্ত্র হারিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, চিনের উপর নজরদারির জন্যই আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-এর সঙ্গে যৌথ অভিযান চালায় দেশের আইবি-র গোয়েন্দারা। তবে তুষারঝড়ের জন্য যন্ত্রটি নন্দাদেবীর পাদদেশেই রেখে আসতে বাধ্য হন তাঁরা। বছরখানেক পর নন্দাদেবীতে গেলেও ওই যন্ত্রটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। জুগজু গ্রামের বাসিন্দাদেরব অনেকের দাবি, রবিবার হড়পা বানে কাদামাটি ধেয়ে আসার সময় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ পেয়েছিলেন তাঁরা। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে ওই তেজস্ক্রিয় যন্ত্রের তত্ত্ব জোরালো হতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়ের ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩২ জনের দেহ। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনা, আইটিবিপি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তবে তপোবন বিদ্যুৎপ্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকতেই বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে। সুড়ঙ্গের ভিতরে বড় বড় পাথর আটকে থাকায় সেগুলো পরিষ্কার করে ঢুকতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। শীঘ্রই জওয়ানরা ভিতরে ঢুকতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইটিবিপির মুখপাত্র বিবেক কুমার পাণ্ডে। অন্যদিকে, ঋষিগঙ্গার উপর দিয়ে দড়ির সাহায্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোতে খাবার, জল এবং ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন সেনা, আইটিবিপির জওয়ানরা। এই বিপর্যয়ের জেরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রেনি, পাং, লতা, সুরাইথোটা, সুকি, ভালগাঁও, তোলমা, ফাগরাসু, গহর, লং সেগদি, ভাঙ্গুল, জুগারওয়ার এবং জুগজু গ্রাম। এই বিপর্যয় প্রসঙ্গে মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। তিনি বলেন, ‘বিপর্যয়ের ওপর নজর রাখছে কেন্দ্র সহ রাজ্যের প্রত্যেকটি সংস্থা। সমন্বয় রেখেই উদ্ধারকাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। উত্তরাখণ্ডকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’ উত্তরাখণ্ডের ধস বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে দেহরাদুনের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজি থেকে বিজ্ঞানীদের দুটি দল ইতিমধ্যেই চামোলিতে পৌঁছেছে।

- Advertisement -