গ্রামবাসীদের রেল অবরোধের হুমকি, রাস্তা সারাইয়ের উদ্যোগে রেলদপ্তর

436

গাজোল: কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে গাজোল ব্লকের বহু এলাকা জলমগ্ন। গাজোলের একলাখী জংশন এলাকার পাশেই রেললাইনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল জল। তাই রেললাইন বাঁচাতে এবং জমা জল বের করতে রেলদপ্তরের পক্ষ থেকে কেটে দেওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা। যার জেরে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছিলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় ৫০-৬০ হাজার মানুষ।

দিন দুয়েক ধরে রাস্তা মেরামতের জন্য রেলদপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসীরা। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষেরা রেল অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে রেলদপ্তর। তড়িঘড়ি জেসিবি মেশিন দিয়ে কেটে দেওয়া রাস্তা মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

- Advertisement -

একলাখী অর্জুন মোড় থেকে শুরু হয়ে একটি পাকা রাস্তা চলে গেছে আলিনগর, রামনগর, কয়লবাদ। ওই সমস্ত গ্রাম ছাড়াও রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের প্রচুর মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। চলাচল করে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও। প্রায় ১৫ দিন ধরে বৃষ্টির জেরে জল জমেছে বিভিন্ন এলাকায়। রেললাইনের দু’ধারের জমা জল বের হতে না পারায় বেশ কিছু জায়গায় রেললাইনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল জল। তাই রেললাইন বাঁচাতে গিয়ে জমা জল বের করতে পাকা রাস্তা কেটে দিয়েছিল রেল দপ্তর। দিন দুয়েক পর রাস্তা মেরামতের জন্য ওই এলাকার মানুষেরা রেলদপ্তরের কাছে আবেদন নিবেদন করেছিল। কিন্তু তাদের কথা কানে তোলেনি রেলদপ্তর।

স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ তাজামুল হক, সুজিত দাসেরা জানালেন, রেলদপ্তরে ভুলের জন্য এই অবস্থা। ডাবল লাইন করার সময় ওখানে একটি কালভার্ট করার দরকার ছিল। কিন্তু খরচ বাঁচাতে গিয়ে সেই কালভার্ট করেনি রেল দপ্তর। সেই জমা জল বের করতে গিয়ে সাধারণের ব্যবহারের রাস্তা কেটে দিয়েছে রেলদপ্তর। যার ফলে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন ওই সমস্ত এলাকার মানুষেরা। বারবার বেলদপ্তরের কাছে আবেদন নিবেদন জানিয়ে কোনো ফল না মেলায় এদিন রেল অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন এলাকাবাসীরা।

এরপরই নড়েচড়ে বসে রেল দপ্তর। তড়িঘড়ি জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে কেটে দেওয়া রাস্তা মেরামত করা হয়। আমরা দাবি জানিয়েছি নির্দিষ্ট জায়গায় অবিলম্বে কালভার্ট তৈরি করতে হবে।

এদিন রেলদপ্তরে পিডব্লিউআই কর্মী অভিজিৎ ঠাকুর জানান, এদিন তাঁরা কেটে দেওয়া রাস্তা মেরামত করে দিলেন। রেললাইনের যেসব জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বালির বস্তা দিয়ে আপাততভাবে সেগুলি মেরামত করা হয়েছে। রেললাইনের যেখানে কালভার্ট করার দরকার ছিল সেখানে কালভার্ট করার জন্য প্রস্তাব রেল দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে।