স্বেচ্ছায় জমি দান, চাঁদা তুলে রাস্তার কাজে উদ্যোগী গ্রামবাসীরা

213

রায়গঞ্জ: কবরস্থান থাকলেও মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। এনিয়ে পঞ্চায়েতের তরফে পাহাড় প্রমাণ প্রতিশ্রুতি মিললেও অধরা রাস্তা। অবশেষে উদ্যোগী হলেন স্থানীয়রা। সরকারি সাহায্যের উপর ভরসা না রেখে নিজেদের সমস্যা সমাধানে কোমড় বেঁধে ময়দানে নেমে পড়লেন গ্রামবাসীরা। স্বেচ্ছায় জমি দানের পাশাপাশি চাঁদা তুলে প্রায় ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ শুরু করলেন তাঁরা। ঘটনাটি, রায়গঞ্জ ব্লকের ৯ নম্বর গৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের রুদ্রখন্ডের।

রাস্তার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সুর চড়িয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষায় কবরস্থানে মৃতদেহ নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। একদিকে কাঁদা অন্যদিকে, জঙ্গলে ভরা পথ। সমস্যা সমাধানের দাবিতে একাধিক সময় দরবার করা হলেও কোন লাভ হয়নি। শেষ অবধি, গ্রামের আট বাসিন্দা রাস্তার জন্য জমি দান করলেন স্বেচ্ছায়। চাঁদা তুলে শুরু হল রাস্তার কাজ। গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগের কথা সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জানতে পারেন রায়গঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশে শুক্রবার রাস্তা নির্মাণ কমিটির হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি।

- Advertisement -

গ্রামের বাসিন্দা তথা জমিদাতা ফরিজুল সাহেব বলেন, ‘কবরস্থানের জন্য জমি থাকলেও সেখানে যাওয়ার জন্য কোনও রাস্তা ছিল না। কবরস্থানে মৃতদেহ নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হত। গ্রামের ৮ জন বাসিন্দা মিলে রাস্তা নির্মাণের জন্য জমি দান করেছি। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে রাস্তাটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যানী। তিনি রাস্তার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। আগামীতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।’ অন্যদিকে, ইকবাল মহম্মদ, কাশেম আলি সহ অন্যান্য গ্রামবাসীরা জানান, রাস্তা না থাকায় এতদিন খুবই সমস্যায় পড়তে হত। এবার কিছুটা সুরাহা হল।

শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যানী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জানতে পারি কবরস্থানে যাওয়ার রাস্তা নেই। সরকারি অনুদান না পেয়ে নিজেরা চাঁদা তুলে রাস্তা তৈরি করছেন বাসিন্দারা। যে কাজ সরকারের করা উচিৎ সেই কাজ ওঁরা নিজেরা করছে জানতে পেরে ভাল লেগেছে। তাই নিজে উৎসাহিত হয়ে ওদের হাতে কিছু আর্থিক সাহায্য তুলে দিলাম।’

এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৈয়ব আলি জানান, এই গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তার কাজ বেশি হয়েছে রুদ্রখন্ড সংসদে। কারন গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজধানী রুদ্রখন্ড সংসদ। এই অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।