প্রাণ হাতে ভাঙাচোরা কাঠের সেতুতে যাতায়াত

202

কৌশিক দাস, ক্রান্তি : নিজেদের তাগিদেই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে ১৫ বছরের পুরোনো কাঠের সেতুর কিছুটা অংশ সারাই করেছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু তারপরও বিপদের ঝুঁকি এতটুকু কমেনি। তাই এবার কাঠের সেতুর পরিবর্তে পাকা সেতুর দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মাঝগ্রাম এলাকার কয়েক হাজার গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, কাঠের সেতুর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি ভেঙে পড়ার মুখে। ভোট এলে নেতারা পাকা সেতুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। যদিও পাকা সেতু তৈরি করার মতো অর্থ তাদের হাতে নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় ১৫ বছর আগে কৈলাসপুর ডিভিশন চা বাগান কর্তৃপক্ষ এলাকার শ্রমিকদের সুবিধার্থে ভালঝোরা নদীর উপর কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিল। এরপর নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। সেতুর বিভিন্ন অংশ খারাপ হতে শুরু করেছে। নষ্ট হয়ে গিয়েছে পাটাতন। গ্রামবাসীরা জানান, নদীতে সারা বছরই জল থাকে। শুখা মরশুমে নদীতে জল কম থাকায় গ্রামবাসীরা নদী পারাপার করে যাতায়াত করতে সমর্থ হলেও বর্ষার দিনে ভালঝোরা ভয়ংকর আকার ধারণ করে। বুতুয়াকালী, সাঁওতালপল্লি, বৈদ্যডাঙ্গা, খালপাড়া, গঙ্গাদেবী সহ আশপাশের ছয়-সাতটি গ্রামের মানুষ কাঠের সেতুর উপর দিয়ে নিত্য যাওয়া-আসা করেন। কিন্তু সংস্কারের অভাবে সেতুটি দিনে দিনে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কোনো উপায় না থাকায় কার্যত প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কয়ে হাজার বাসিন্দা সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষার সময় সেতুর উপর দিয়ে জল বয়ে যায়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের কাছে পাকা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বহুবার দরবার করা হলেও বিষয়টিকে তারা কেবল উপেক্ষাই করে গিয়েছে। অথচ ভোটের সময় সব রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীরা এলাকায় এসে সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা রমেশ ওরাওঁ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে কাঠের সেতুটি প্রায় নষ্ট হয়ে যাবার মুখে। সেতুর বিভিন্ন অংশ ভেঙেও গিয়েছে। যাতায়াত করতে গেলে দুলতে থাকে। সাইকেল ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। আরেক বাসিন্দা অনিল রায় বলেন, সারাদিনে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করেন সেতুটির উপর দিয়ে। কয়েকশো স্কুল পড়ুয়াও সেতুর উপর দিয়ে যায়। সেতুর গায়ে রেলিংও নেই। বারবার সংস্কারের ব্যাপারে বলা হলেও সেতু নির্মাণের ব্যাপারে কারও কোনো হেলদোল নেই।

এ বিষয়ে ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বসুন্ধরা দাস বলেন, সেতু তৈরিতে অর্থেরও প্রযোজন। গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকায় নতুন সেতু তৈরি সম্ভব নয়। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অর্থের সংস্থান হলেই সেতু নির্মাণের ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে।