নদী-ভাঙন রুখতে তৎপর গ্রামবাসী

215

মেখলিগঞ্জ: তিস্তা নদীর ভাঙন মোকাবিলায় এবার বাঁশের খাঁচা বানিয়ে নদীর ধারে বসানোর কাজ শুরু করলেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৭২ নিজতরফ গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা জানিয়েছেন, নদীতে জল কমলেও তিস্তার ভাঙন বন্ধ হয়নি বরং বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে গাছের ডাল, বাঁশ ইত্যাদি ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করছিলেন। তাতেও তেমন কাজ না হওয়ায় সোমবার সকাল থেকে তাঁরা বাঁশ দিয়ে খাঁচা বানিয়ে নদীর ধারে বসানোর কাজ শুরু করেছেন।

সঞ্জয় রায়, অখিল সরকার প্রমূখ বাসিন্দা জানান, গাছের ডাল, বাঁশ ইত্যাদি ফেলা হলেও নদীর জলের তোড়ে সেগুলিও ভেসে যাচ্ছে। তাই এবার বাঁশ দিয়ে খাঁচার মতো তৈরি করে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। গ্রামের অনেকে অবশ্য জানান, তাঁদের এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। প্ৰয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু তাদের সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন কবে ঘটতে পারে সেটার কোনও ঠিক নেই। এই অবস্থায় শুধু সেচ দপ্তর এবং প্রশাসনের ভরসায় বসে থাকলে নদী গ্রামের অনেক ক্ষতি করে দিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তাই গ্রামবাসী নিজেরাই নাওয়া-খাওয়া একপ্রকার ভুলে গিয়ে যে  যেরকমভাবে পারছেন ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নিতাই সরকার জানান, তিস্তার ভাঙন নিয়ে এলাকার মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক রয়েছে। তাই কয়েকদিন ধরে গ্রামবাসীরা নিজেরাও পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজে হাত লাগাচ্ছেন।

নিজতরফ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুনীল রায় জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। বিষয়টি সেচ দপ্তরকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত কারণ তিস্তা ইতিমধ্যেই অনেকের জমি গ্রাস করে ফেলেছে বলে তাঁর কাছেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

যদিও সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়ি ডিভিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ৭২ নিজতরফ গ্রামের তিস্তার ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁরা অবগত রয়েছেন। এলাকায় গিয়েও তাঁদের তরফে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।