চেলসির হাত ধরে চ্যাম্পিয়ন বিনয়ও

পোর্তো : চেলসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে এক ভারতীয়ও। তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে টুইট করেন দলের অধিনায়ক সিজার আজপিলিকুযো স্বযং।

তিনি বিনয় মেনন। কোচির বাসিন্দা বিনয় চেলসির মাইন্ড স্ট্র‌্যাটেজিস্ট ও ওয়েলনেস কনসালট্যান্ট। সহজ বাংলায়, দলের ফুটবলারদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার দায়িত্বে মালায়ালি বিনয়। ফুটবলাররা যাতে জয়ের আনন্দে ভেসে না যান বা হারের দুঃখ ভুলে ফের মাঠে সেরাটা দিতে পারেন, তা দেখভাল করেন তিনি। আধুনিক ফুটবলে শারীরিকভাবে ফিট হওয়ার মতোই মানসিক স্বাস্থ্য গুরুত্ব পায়। তাই দলের সঙ্গে মোটিভেশনাল স্পিকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষকে যুক্ত করা হচ্ছে। চেলসির জন্য এই কাজটা মরশুমের পর মরশুম ভালোভাবে করছেন ক্লাব মালিক রোমান আব্রাহিমোভিচের ঘনিষ্ঠ এই ভারতীয়।

- Advertisement -

ছোটবেলায় অবশ্য ফুটবলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না বিনয়ে। বরং আগ্রহ ছিল জুডো নিয়ে এমনকি কেরালার রাজ্য দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এরপর কালিকট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শারীরশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর স্পোর্টস সাইকোলজিতে এমফিল সেরে যোগা নিয়ে কোর্স করেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো শুরু করেন। এরপর দেশ ও দেশের গণ্ডি পার হয়ে বিদেশের মাটিতেও কাজ শুরু করেন। এভাবেই ২০০৮ সালে লন্ডনের একটি রাশিয়ান পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তাঁর। পশ্চিম লন্ডনের ওই পরিবারকে নিশ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল শেখানোর জন্য তাঁকে নিয়োগ করা হয়। ওই পরিবারে কর্তার নাম রোমান আব্রাহিমোভিচ, চেলসির মালিক।

দ্রুতই রোমানের ভারসার লোক হয়ে ওঠেন বিনয়। ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে বিভিন্ন দেশে ঘোরার সময় বিনয়কেও সঙ্গী করেন এই রাশিয়ান ধনকুবের। এরপর তাঁর উপর চেলসির দায়িত্বও দেন রোমান। গত প্রায় ১২ বছর ধরে ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি। তবে নিয়মিত কাজ শুরু ২০১৫-১৫ নাগাদ। জন টেরি, ইডেন হ্যাজার্ড, দ্রিদিয়ের দ্রোগবা, ফ্র‌্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড থেকে শুরু করে বর্তমানের কাই হাভার্জ, টিমো ওয়ের্নার- বহু তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন বিনয়। বর্তমান কোচ টমাস টুচেল ছাড়াও কাজ করেছেন হোসে মোরিনহো, কার্লো আন্সোলত্তির মতো তারকা ম্যানেজারের সঙ্গে।

নিজের কাজ প্রসঙ্গে বিনয় বললেন, কখনও আমি ফুটবলারদের যোগা করাই। আবার কখনও শুধুমাত্র ওদের সঙ্গে কথা বলি, ওদের লক্ষ্য করি। আমার কাজের কোনও বাধাধরা রুটিন নেই। আমি ওদের শান্ত থাকতে সাহায্য করি। এটাই আমার কাজ। প্রথমদিকে অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ফুটবলে আমার কাজটার কোনও অস্তিত্ব ছিল না। ওরা ভাবত, এই লোকটা কে? প্রথম প্রথম ওরা মনে করত আমি ভুডু (আফ্রিকার জাদুবিদ্যা) বা তেমন কিছু করছি। করোনা সংক্রমণ, পরপর ম্যাচ, বর্ণবিদ্বেষ- একের পর এক হার্ডল আসে একজন ফুটবলারের জীবনে। আড়ালে থেকে চেলসির ফুটবলারদের সেই হার্ডল পার করাচ্ছেন ভারতীয় বিনয়।