ধিক্কার মিছিল থেকে ভাঙচুর শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে

655

শান্তিনিকেতন: বিশ্বভারতী পৌষমেলা মাঠ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার প্রতিবাদে মিছিল থেকে উত্তেজনা ছড়াল শান্তিনিকেতনে। ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বভারতীর উপাচার্যের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। তিনি ঘোষণা করেন, মেলার মাঠ উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হবে। উপাচার্যের এহেন ঘোষণার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা।

মেলার মাঠ ঘিরে ফেলা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। রবিবার এনিয়ে একপ্রস্থ অশান্তিও হয়। প্রাক্তনীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে বিশ্বভারতীর নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠছিল রবি ঠাকুরের প্রাণের শান্তিনিকেতন চত্বর।

- Advertisement -

এরপরই সোমবার সকালে প্রায় হাজার দশেক লোকজন নিয়ে বোলপুর দমকল কেন্দ্রের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরাও। এরপরই মিছিল পৌষমেলার মাঠে পৌঁছতেই শুরু হয় ধুন্ধুমার কাণ্ড। অভিযোগ, বহিরাগতরা মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকে মিছিলের অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। তা চরমে ওঠে। ঠিকাদার সংস্থার মেশিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয়েছে মেলার মাঠে ঢোকার সমস্ত গেট, লাইটের খুঁটি। তবে ঘটনার সময় পুলিশের কোনও দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ।

এই বিষয়ে তৃণমূলের বিধায়ক তথা বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী নরেশ বাউরি বলেন, ‘১৯৮০ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত আমি এখানে অধ্যাপনা করেছি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন প্রকৃতির কোলে পড়াশোনা, বিনোদন। কিন্তু একজন করে উপাচার্য আসছেন আর নিজেদের মতো করে বিশ্বভারতীকে সাজাতে গিয়ে রবীন্দ্র আদর্শকে বিসর্জন দিচ্ছেন। তাই আমরা ধিক্কার মিছিল বের করেছিলাম।’ তবে মেলা প্রাঙ্গণে কারা ভাঙচুর চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিনের ঘটনার পরেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ একটি জরুরি বৈঠকে বসেছে বলে জানা গিয়েছে।