ভাবুন তো, গাছের সবুজ পাতাগুলো যদি বেগুনি হযে যায় সব। যদি আমাদের এই গ্রহটা সম্পূর্ণ বেগুনি হযে যায়? এরকম কেউ ভাবলে তাকে কল্পনাই বলব আমরা। তবে এখন আর একে কল্পনা বলা যাবে না। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আদি কাল থেকে ক্রমাগত বদলাতে বদলাতে আমাদের আজকের পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। এখন তার যেরকম চেহারা ও রং আমরা দেখছি, শুরুতে এরকম ছিল না। কিন্তু কেমন ছিল সেই পৃথিবী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, আদিম সেই পৃথিবী একেবারেই আজকের মতো সবুজে ভরা ছিল না। আজকের সবুজ এই পৃথিবী আদিতে ছিল বেগুনি রঙে। এক ধরনের কোষ থেকেই আজকের এই জটিল কোষ সমৃদ্ধ বহু বিচিত্র প্রাণের উদ্ভব। আর এই আদিকোষের রং ছিল বেগুনি, যা আজকের সবুজ পৃথিবীকে দিযেিল বেগুনি রূপ।

ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালযে গবেষক ও অণুজীববিজ্ঞানী শিলাদিত্য দাশশর্মা এই বিষযটি নজরে আনেন। তাঁর বক্তব্য, আদিম সেই পৃথিবী বেগুনি রঙে এককোষী অণুজীবদের দখলে ছিল। কযে লক্ষ বছর আগেও পৃথিবীতে এই

অণুজীব ছিল। তিনি বলেন, এককোষী অণুজীবের ওই পৃথিবী মহাকাশ থেকে বেগুনিই দেখানোর কথা। বেগুনি রঙের অণুজীবগুলোই এক কথায রাজত্ব করত আদি পৃথিবীতে। এটি দারুণ এক সম্ভাবনার রাস্তা খুলে দিয়েছে আমাদের সামনে। শিলাদিত্য বলেন, মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহে বহুদিন ধরেই আমরা প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করছি। এ ক্ষেত্রে এতদিন জলের খোঁজ পাওযাই আমাদের কাছে প্রধান বিষয ছিল। আর রংযে বিষয় যদি আসে, প্রাণ বলতেই আমরা বুঝতাম সবুজ। কিন্তু এই গবেষণা আমাদের একটি বেগুনি গ্রহ খুঁজতে বলছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত শেষ পর‌্যন্ত ঠিক প্রমাণিত হলে, বড়ো একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষত ভিন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার কাজে এটি বিশেষভাবে সহাযক হবে। শিলাদিত্য বর্তমানে হ্যালোফিলস নামের এক ধরনের এককোষি অণুজীবের উপর গবেষণা চালাচ্ছেন। গ্রেট সল্ট লেকের মতো উচ্চ মাত্রার নোনা পরিবেশে এই অণুজীব পাওযা যায। তিনি বলেন, সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বেগুনি রঙের থেকে সবুজ রঙের ক্লোরোফিল অনেক ভালো। আর বিবর্তনের পথে এটিই সবুজের কাছে বেগুনিকে পরাজিত করেছে। তাই বিবর্তনের নিযমেই সেই এককোষী অণুজীবরা হারিযে গিয়েছে।

জর্জিযা টেক স্কুল অফ আর্থ অ্যান্ড অ্যাটমোসফিযারিক সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক জেনিফার গ্লাস বলেন, বাযুমণ্ডলে অক্সিজেন পুঞ্জীভূত হওযার আগের পরিবেশ এই ব্যাকটেরিযার জন্য অনুকূল ছিল।

জেনিফার গ্লাসের এই মতকে সমর্থন করেন জর্জিযা টেক স্কুল অব বাযোলজির সহযোগী অধ্যাপক ফ্রাংক স্টুযার্ট। তিনি বলেন, এটা প্রমাণিত যে, এই ব্যাকটেরিযা অনেক কম অক্সিজেনের মধ্যেও বাঁচতে পারে। কারণ প্রাচীন সমুদ্রগুলোয এই ব্যাকটেরিযার দেখা মেলে সবচেযে বেশি।