ভার্চুয়াল অঞ্জলি, ট্রাকে চড়ে দর্শন দেবেন দেবী

721

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: করোনা পরিস্থিতিতে আজকাল সবকিছুই ওলটপালট। প্রতিদিনই সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে উদ্বেগও। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা অজানা। এরই মাঝে সবার মনে আগমনীর সুর। দুর্গাপুজোর আর মাস দুয়েক বাকি। এই সময়ের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের বিধিনিষেধ উঠে গিয়ে সবাই মিলে এবারও পুজোয় শামিল হওয়া, এখনও স্বপ্নই। কিন্তু বাঙালি কি এত সহজে হাল ছাড়তে পারে? তাই পুজোয় শামিল হতে নতুন ভাবনা। বাড়িতে গিয়ে অঞ্জলি দিলে ফুল গিয়ে পাড়ার পুজোমণ্ডপে দেবীর পায়ে পড়বে। কোচবিহারের নিউটাউন ইউনিট ক্লাব কর্তৃপক্ষ এমনই অভিনব পুষ্পাঞ্জলির বন্দোবস্ত করেছে। বাড়িতে বসে না হয় এভাবে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া গেল, কিন্তু সশরীরে ঠাকুর দেখা? চিন্তা নেই। সেই ব্যবস্থাও হয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ দেবীকে ট্রাকে চাপিয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরাবার পরিকল্পনা করেছে। প্রশাসনের অনুমতি পেলেই পূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়টি ঘোষণা করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির জেরে কোচবিহারের বেশ কিছু ক্লাব এবারে কোনও জাঁকজমক ছাড়াই পুজোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবারই পুজোর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ক্লাবগুলি প্রতিমা, মণ্ডপ, আলোকসজ্জায় একে অপরকে টেক্কা দিতে প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। কিন্তু এবারে পরিস্থিতি পুরোপুরি অন্য। ভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে দলে দলে ঠাকুর দেখার প্রবণতা এবারে যে দেখা যাবে না তা একপ্রকার নিশ্চিত। তাই শহরবাসীর কথা মাথায় রেখে কোচবিহারের নিউটাউন ইউনিট ক্লাব অন্যরকমের ভাবনা ভেবেছে। অষ্টমীর সকালে এবছর পাড়ার পুজোমণ্ডপ নয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বাড়িতে বসেই বাসিন্দারা দেবীর উদ্দেশে অঞ্জলি দিতে পারবেন। সেজন্য পাড়ার প্রতিটি গলিতেই মাইক লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি, হাতিয়ার হিসাবে সোশ্যাল মিডিয়া তো থাকছেই। অষ্টমীর সকালে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা নিজেদের ঠাকুরঘরে বসে অঞ্জলি দিতে পারবেন। ক্লাবের ছেলেরাই ঝুড়ি নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে সেই ফুল সংগ্রহ করবেন। পাশাপাশি, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে শহরের মানুষ দেবীদর্শনের সুযোগ পাবেন। ক্লাব সূত্রে খবর, এবছর দুটি প্রতিমার কথা ভাবা হয়েছে। চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী স্থায়ী প্রতিমায় টাকমাথার সাদা অসুরকে দেখা যাবে। সেখানে দেবী দুর্গা করোনাসুরকে বধ করবেন। অপর প্রতিমাটি সুসজ্জিত ট্রাকে থাকবে। সপ্তমী থেকে নবমী, সেই ট্রাক শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরবে।

- Advertisement -

পুজো উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের প্রতিবারই প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় জমাতে দেখা যায়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবারে এভাবেই পুজোর আয়োজন করা হবে বলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাবের দুর্গাপুজোর এবার ৫২তম বর্ষ। প্রতিবারের মতোই এবছরও ক্লাবের পক্ষ থেকে বস্ত্রদান, নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা থাকছে।

ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক অভিষেক সিংহ রায় বলেছেন, এই উদ্বেগের সময়ে কেউই বাড়ি থেকে বের হতে চাইবেন না। কিন্তু তাতে কি আর দেবীদর্শন, অঞ্জলি থেমে থাকবে? তাই আমরা ভার্চুয়াল অঞ্জলির কথা ভেবেছি। পাশাপাশি, দেবীদর্শন করাতে পুজোর তিনদিন মাকে ট্রাকে করে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হবে।