ভোটের মুখে তড়িঘড়ি মালদা সিল্ক পার্কের ভার্চুয়াল উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

138

মালদা: একুশের নির্বাচনী নিঘণ্ট ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। চলতি সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী বিধি লাগু হয়ে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গে। মডেল কোড অফ কনডাক্ট চালু হয়ে গেলে আর সরকারি কোনও প্রকল্পের উদ্বোধন করতে পারবে না রাজ্য সরকার। অনেকটা তড়িঘড়ি করেই কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি মালদা সিল্ক পার্কের উদ্বোধন করে ফেললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেল মধুঘাট এলাকায় জেলা ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগম এবং ইংরেজবাজার ব্লক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিল্ক পার্কের উদ্বোধন হয়। উপস্থিত ছিলেন ইংরেজ বাজারের বিডিও সৌগত চৌধুরী।

মালদার রেশম শিল্পের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে ২০০৫-০৬ সালে তৎকালীন বাম সরকার জেলায় একটি সিল্ক পার্ক তৈরির চিন্তাভাবনা শুরু করে। এব্যাপারে উদ্যোগ নেন রাজ্যের তৎকালীন ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী মানব বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য ইংরেজবাজারের মধুঘাট এলাকার ব্যাসপুরে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারে মোট ১৩.০৭ একর জমি চিহ্নিত করা হয়। শিল্প উন্নয়ন নিগমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি ইঞ্জিনিয়ার পল্লব হাওলাদার জানিয়েছেন, এই পার্কে রেশমগুটি থেকে সুতো উৎপাদন, তার বিপণন সহ বিভিন্ন কাজ হবে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পর ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগমের তরফে এই পার্ক তুলে দেওয়া হবে রেশমচাষি ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটির হাতে। পার্ক চালানোর জন্য বিদ্যুৎ, জল সহ যাবতীয় খরচ ওই কমিটিকেই বহন করতে হবে। পার্কের আয়ও ওই কমিটি নিজেদের হাতে রাখবে। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন রেশমচাষিরা। তাঁদের বক্তব্য, মালদা জেলায় রেশম উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লক। চাঁচল ১ ও কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকেও কিছু রেশম সুতো উৎপাদন হয়। এই অবস্থায় গাঁটের কড়ি খরচ করে কেউ ইংরেজবাজার ব্লকে সুতো তৈরি করতে কেউ আগ্রহ দেখাবে না। কারণ, এখন প্রায় সব চাষিই নিজেদের বাড়িতে সুতো উৎপাদন করেন। তার উপর বাড়িতে সুতো উৎপাদন করতে যে খরচ হয়, এই পার্কে তার থেকে অনেক বেশি খরচ পড়বে। আর শুধু সুতো তৈরি ও বিপণনের ব্যবস্থা করে জেলার রেশম চাষকে পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তার জন্য আগে কাপড় উৎপাদন এবং তাতে প্রিন্টের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই জেলার রেশম চাষ সামনের দিকে এগোতে পারবে।

মালদা জেলায় এই মুহূর্তে প্রায় ২১ হাজার একর জমিতে তুঁত চাষ হয়। এই চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিন লাখ কৃষক। সব মিলিয়ে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। জেলায় বছরে পাঁচবার রেশম উৎপাদিত হয়। বার্ষিক রেশমগুটি উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। তা থেকে প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন সুতো তৈরি হয়।

গত শনিবার মালদা সফরে এসে জেলার আম ও রেশমচাষিদের সঙ্গে সহভোজন করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা। সেকারণেই কি রেশমচাষিদের পাশে থাকার বার্তা দিতে মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি সিল্ক পার্ক উদ্বোধন বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।