মারণ ভাইরাসে শেষ ডুয়ার্সের কমলা

397

নাগরাকাটা : শুরুটা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। একধরনের ভাইরাস আর দু-ধরনের রোগপোকার ত্রহ্যস্পর্শে ডুয়ার্স লাগোয়া পাহাড়ে এবার কমলার ফলন কার্যত শূন্য। ফলে মাথায হাত অন্তত শ’দুয়েক চাষির। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন রোগপোকা নিয়ন্ত্রনের উপায় আছে। কিন্তু সমতল সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায সাইট্রাস ডাইব্যাক নামে এক মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েই সেখানকার কমলা চাষের দফারফা হয়েছে, যা দমনের ওষুধ এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।

মূলত যে এলাকাগুলি কমলা চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলির সবকটিই গরুবাথান ব্লকের। ওই ব্লকের সহকারী কৃষি নির্দেশক মুকেশ তামাং বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ভাইরাস দমনে যেহেতু কোনো ওষুধ নেই তাই চাষিদের বলে দেওয়া হয়েছে আক্রান্ত গাছগুলি কেটে দিতে। প্রায সব চাষি তা করে ফেলেছেন।’

- Advertisement -

গরুবাথানের যে সব এলাকায় কমলা চাষ হয় সেগুলি হস আপার গরুবাথান, টাড়, গৈরিগাঁও, সামসিং, বালুখোপ, রাইগাঁও, প্যারেন, ঝালং, জোন, বিচাগাঁও, লেপচাগাঁও, তিনকাটারির মতো স্থানগুলি। এবার শুধুমাত্র বিন্দু এলাকায় কিছু ফলন হয়েছে। বাকি সবকটি স্থান কমলাহীন। অথচ ফি বছর গরুবাথানের কমলা ডুযার্সের বাজারে আসে। তা হইহই করে বিক্রিও হয। শীতের ওই ফল এবার ডুযার্স অন্তত গরুবাথান থেকে যে কিছুই পাচ্ছে না, তা নিশ্চিত।

কৃষি আধিকারিকরা বলছেন সাইট্রাস ডাইব্যাক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কমলাগাছের ওপরের অংশ ধীরে ধীরে শুকিযে যেতে থাকে। একটা সময় গোটা গাছ মরে যায়। এক গাছ থেকে বাগানের অন্য গাছেও ওই ভাইরাস ছড়িযে পড়ে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রেই জানা যাচ্ছে, গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো এবার পাপরখেতি গ্রাম পঞ্চায়েতের সুনতলাখেতি গরুবাথান দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিখোলা নামে দুটি স্থানে যে কিছুটা কমলা হয়েছিল সেগুলিও যথাক্রমে হোয়াইট ফ্লাই ও ফ্রুট ফ্লাই নামে আরও দুরকম রোগপোকার আক্রমণ হয়েছে। কৃষি দপ্তরের গরুবাথান ব্লকের অ্যাসিট্যান্ট টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাজন ছেত্রী বলেন, ‘হোযাইট ফ্লাই ও ফ্রুট ফ্লাইকে নিয়ন্ত্রণের উপায় রয়েছে। তবুও একবার আক্রমণ হলে প্রাথমিক ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েই যায়। এই মূহূর্তে আমাদের সবচেয়ে দুশ্চিন্তা সাইট্রাস ডাইব্যাক নিয়ে।’

কৃষি দপ্তর জানাচ্ছে সাইট্রাস ডাইব্যাক এতটাই ক্ষতিকর যে আক্রান্ত হওয়ার পর গাছ উপড়ে ফেললেই হবে না, মৃত গাছ গোড়া থেকে পুড়িযে ফেলতে হবে। জমি ফেলে রাখতে হবে ৩-৪ বছর। এরপর মাটি শোধন করে নতুন চারা রোপণ করতে হবে। গরুবাথানের টাড় এলাকার ধীরেন রাই, আমস রাইয়ের মতো কমলাচাষিরা বলছেন, শীতের সময় কমলা ফলিযে দুটো টাকা বাড়তি আয় হত। মারাত্মক ভাইরাস সেই স্বপ্ন ধুলোয মিশিযে দিয়েছে। কালীখোলার সন্দীপ রাই নামে এক চাষী বলেন, ‘আমায ডোবালো ফ্রুট ফ্লাই। ভাবছি কমলা চাষ পুরোপুরি ছেড়েই দেব।

ছবি- মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত গরুবাথানের কমলা গাছ।

তথ্য ও ছবি- শুভজিৎ দত্ত