সানি সরকার  শিলিগুড়ি : ভাইরাসের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে পাহাড়ের আদা ও এলাচ চাষ। উৎপাদন তলানিতে ঠেকায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে কৃষিবিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই কাজের খোঁজে কৃষক পরিবারের সদস্যরা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। সরকারি তরফে ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে আগামীদিনে পাহাড় চাষের জমি হারাবে বলে মনে করছেন কৃষিবিজ্ঞানী এস দেবনাথ। সম্প্রতি তিনি কালিম্পংয়ে কয়েকটি ব্লকে চাষের জমিগুলি পরিদর্শন করার পাশাপাশি সেখানে কী ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ ঘটছে তা শনাক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু পর্যটন নয়, কৃষিকাজের উপরেও নির্ভরশীল পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার মানুষ। তাই সরকারি তরফে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নইলে কয়েক বছরের মধ্যে পাহাড়ে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। টি বোর্ডের উপদেষ্টা তথা উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে টি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এস দেবনাথকে পাহাড়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল মণি ট্রাস্ট। সংস্থার তরফে সুবাসমণি সিং বলেন, পাহাড়ে কৃষিক্ষেত্রের পরিস্থিতি যথেষ্ট খারাপের দিকে যাচ্ছে। অর্থকরী ফসল থেকেও রোজগার না হওয়ায় প্রচুর ছেলে ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি উদ্যোগও প্রয়োজন।

শুধু কমলালেবু নয়, পাহাড়ের পরিচিতি রয়েছে এলাচ এবং আদা চাষের জন্যেও। কিন্তু কমলালেবু গাছের মতো আদা এবং এলাচ গাছেও ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এখনই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পাহাড়ের জমিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়তে হবে। এলাচ এবং আদার ক্ষেত্রে ফোমা, ফুরজে ও মুজালের মতো কিছু ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। প্রত্যেকটি ভাইরাসই মারাত্মক ক্ষতিকারক বলে অভিমত কৃষিবিজ্ঞানীদের।

দার্জিলিংয়ের কিছু অংশের পাশাপাশি কালিম্পংয়ে ৩ নম্বর ব্লকে এলাচ চাষ হয়। এখানকার এলাচ একটা সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রপ্তানি হত। আদা চাষ হয় কালিম্পংয়ে ১, ২ ও ৩ নম্বর ব্লকে। এস দেবনাথের নেতত্বে একটি দল ইতিমধ্যে সংক্রমণ ঘটা কিছু গাছ এবং পাতা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে কৃষিজমির মাটিও। কৃষিবিজ্ঞানীদের বক্তব্য, প্রাথমিকভাবে যে ভাইরাসগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে তা সত্যিই মারাত্মক। ভাইরাসের আক্রমণের ফলে গাছগুলিতে পুষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে। এর ফলে মরেও যাচ্ছে অনেক গাছ। সুবাসমণি সিংয়ে বক্তব্য, সরকার বিপণনের ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। না হলে পাহাড়ে বেকারত্ব আরও বাড়বে।