রণজিত্ ঘোষ, শিলিগুড়ি : ২০১৮ সালে আর্থিক বরাদ্দ মিললেও এখনও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তৈরি হয়নি ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে স্পষ্ট জানিযে দেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে ল্যাবরেটরি চালু করতে না পারলে পুরো বরাদ্দ ফিরিযে নেওয়া হবে। কিন্তু কেন আটকে রয়েছে এই ল্যাবরেটরির কাজ? মেডিকেল সূত্রের খবর, সমস্ত মেশিন চলে এসেছে। কিন্তু পূর্ত দপ্তর এখনও ল্যাবরেটরি ভবনের কাজ না করায় সেই মেশিন বসানো যাচ্ছে না। গত মার্চ মাসে পূর্ত দপ্তরকে (সোশ্যাল সেক্টর) টাকা দিয়ে দিলেও এখনও তারা কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকার। ল্যাবরেটরির টাকা ফেরত গেলে তার জন্য পূর্ত দপ্তরই দাযী থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। পূর্ত দপ্তর সূত্রের খবর, মেডিকেল কর্তপক্ষ সময়মতো টাকা না দেওয়ায় টেন্ডার করতে দেরি হয়েছে। পাশাপাশি একাধিকবার টেন্ডার করা হয়েছে। টেন্ডারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক এজেন্সি অংশ না নেওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা য়ায়নি।  বিষয়টি নিযে পূর্ত দপ্তরের নর্থবেঙ্গল ডিভিশনের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (সোশ্যাল সেক্টর) সুজিত দাস বলেন, দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২০১৮ সালেই ভিআরডিএল ল্যাবরেটরি তৈরির জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়। কলকাতার শেঠ সুখলাল কারনানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরে রাজ্যে তৃতীয় ল্যাবরেটরি তৈরি হচ্ছে এই মেডিকেলে। এই ল্যাবরেটরি তৈরি হলে মেডিকেলেই ভাইরাসঘটিত সমস্ত রোগের পরীক্ষানিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। যেকোনো পরীক্ষার জন্যই বাইরে নমুনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে না। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই ল্যাবরেটরির কাজ মাঝপথে এভাবে আটকে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। কাজ শেষ করার জন্য সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকার বলেন, রিয়েল টাইম পিসিআর, এলাইজা, মাইনাস ৮০ ডিগ্রি রেফ্রিজারেটার (-৮০ ডিগ্রি), জেল ডকুমেন্টেশন সিস্টেম সহ সমস্ত কিছুই এসে গিয়েছে। বিদ্যুতের ওয়্যারিংযে কাজও হযে গিয়েছে। মেঝে তৈরি করা সহ বেশ কিছু কাজ বকেয়া রয়েছে। আমরা পূর্ত দপ্তরের সোশ্যাল সেক্টরকে জানুয়ারি মাসেই টাকা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা কাজ করছে না। বারবার বলার পরেও কাজ হচ্ছে না।

বিষয়টি নিযে পূর্ত দপ্তর জানিয়েছে, মেডিকেল কলেজ গতবছর টেন্ডার করার কথা বলেছিল ঠিকই কিন্তু টাকা দেয়নি। টাকা না পাওয়ায় টেন্ডার করতে দেরি হয়েছে। যদিও পরপর দুবার টেন্ডার করা হয়েছে।   প্রথমবার দুটি এজেন্সি এবং দ্বিতীয়বার একটিমাত্র এজেন্সি টেন্ডারের জন্য সফল হয়েছিল। কিন্তু সরকারি নিয়মে অন্তত তিনটি এজেন্সি থাকা প্রয়োজন। তা না হওয়ায় পুরো বিষয়টি নিযে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নবান্নে দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত এলে কাজ শুরু হবে।