নবগ্রামে বিজেপি কর্মীর মাকে ধর্ষণের পর খুন, জানালেন কেন্দ্রীয় তপশিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান

122

বর্ধমান, ১৩ মেঃ ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার নবগ্রাম নিবাসী বিজেপি কর্মীর মা কাকলি ক্ষেত্রপাল। ৪৭ বছর বয়সি কাকলি ক্ষেত্রপালকে ধর্ষণ করার পর খুন করা হয় বলে বৃহস্পতিবার জানালেন কেন্দ্রীয় তপলিশি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা। কেন্দ্রীয় তপশিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যানের এমন দাবিতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও জামালপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় তপশিলি জাতি কমিশনের প্রতিনিধিরা পক্ষপাতদোষে দুষ্ট হয়ে এমন মন্তব্য করছেন। মুখে কিছু না বললেও, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারাও এই অভিযোগের সঙ্গে সহমত হতে পারেননি।

ভোটের ফল প্রকাশের পরদিনই রাজনৈতিক
হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জামালপুর থানার নবগ্রামের ষষ্ঠিতলা এলাকা। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষের ঘটনায় ওইদিন প্রাণ হারাণ এলাকার বিজেপি শক্তি প্রমুখ আশিষ ক্ষেত্রপালের মা কাকলি ক্ষেত্রপাল। এছাড়াও দুই তৃণমূল কর্মী শাজাহান শা ওরফে সাজু ও বিভাস বাগ মারা যান। ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন জেলার রায়না থানার সমসপুরের তৃণমূল কর্মী গনেশ মালিক ও কেতুগ্রামের শ্রীপুরের বিজেপি কর্মী বলরাম মাজি। পাশাপাশি বর্ধমান ১ ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়াতেও ঘটে হিংসার ঘটনা।

- Advertisement -

এমন ঘটনার কারণ ও হিংসা পরবর্তী পরিস্থিতি সরোজমিনে খতিয়ে দেখতে এদিন বেলায় কেন্দ্রীয় তপশিলি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা, ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার সহ ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল নবগ্রামে পৌঁছান। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, জেলার পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন সহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের অন্য উচ্চ পদস্থ কর্তারাও কমিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই নবগ্রামে পৌঁছান।কমিশনের প্রতিনিধিরা কাকলি ক্ষেত্রপালের বাড়িতে যান। কিন্তু, সেখানে কারও দেখা পান না। বাড়িতে কেউ না থাকায়, নিহতের প্রতিবেশী কারও সঙ্গেও তাঁরা কথা বলতে পারেননি।

এরপর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় তপশিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা। তিনি বলেন, তপশিলি জাতি পরিবারের মহিলা কাকলি ক্ষেত্রপালকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এমন অভিযোগ পেয়ে তাঁরা নবগ্রামে এসেছেন। কিন্তু, এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ এখনও অব্যাহত থাকায় নিহতের পরিবার কিংবা তাঁদের প্রতিবেশী কাউকে বড়িতে পেলেন না। তাই কারও সঙ্গে কথা বলতে পারলেন না। গত ৩ মে ভোট পরবর্তী হিংসায় নবগ্রাম নিবাসী তৃণমূল কর্মী বিভাস বাগও খুন হয়েছেন। কিন্তু, ওই দল তাঁর বাড়িতে গেলেন না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজয় সাম্পলা বলেন, যাদের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন শুধু তাঁদের বিষয়েই তাঁরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন।

চেয়ারম্যানকে এরপরেই সাংবাদিকরা জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা পক্ষপাতদোষে দুষ্ট বলেই শুধু বেছে বেছে বিজেপির লোকজনের বাড়ি যাচ্ছেন। এরপর নবগ্রাম থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল শহর বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে পৌঁছান। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা কাকলি ক্ষেত্রপালের স্বামী অনিল ক্ষেত্রপালের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা সেদিনের ঘটনা বৃত্তান্ত শোনেন। নার্সিংহোম থেকে বেরিয়ে তপশিলি জাতি কমিশনের প্রতিনিধিরা বর্ধমান ১ ব্লকের বেলকাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মিলিকপাড়াতেও গিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে সেখানকার ১০-১২ টি দোকান ও ১টি মুড়ির কারখানা ভাঙচুর করে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কমিশনের প্রতিনিধিরা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে ক্ষতিগ্রস্তদের তরফে অপু মল্লিক, রাখি মল্লিক প্রমুখ বলেন।

ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তপশিলি জাতি কমিশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা বর্ধমান সার্কিট হাউসে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে করেন। সেখান থেকে তপশিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান বিজয় সাম্পলা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে হবে। পাশাপাশি, মারধোর ও ভাঙচুরের ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যান সিংহরায় বলেন, ঘটনায় জামালপুরের নবগ্রামে নিহত তপশিলি পরিবারের কাকলি ক্ষেত্রপাল ও বিভাস বাগ যাতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়, সেই প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এসডিপিও (বর্ধমান সদর) আমিরুল ইসলাম খান বলেন , কাকলি ক্ষেত্রপালকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে তপশিলি জাতি কমিশনের চেয়ারম্যান যে অভিযোগ করছেন, তা সত্য নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও ধর্ষণের কোনও উল্লেখ নেই। জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন বলেন, কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা যে পক্ষপাতদোষে দুষ্ট, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলে থাকেন। এদিন তপশিলি জাতি কমিশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের বেছে বেছে শুধু বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যাওয়া থেকে তা আরও একবার প্রমাণ হল।