খুনের তত্ত্ব খারিজ, দিনহাটা কাণ্ডে রিপোর্ট কমিশনে

203

কোচবিহার: দিনহাটায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অমিত সরকারের মৃত্যুর ঘটনা কোনও খুন নয়। এটা নিছকই একটা আত্মহত্যা। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে কমিশনের কাছে এমনই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অমিত সরকারের মৃত্যুকে বিজেপি প্রথম থেকে খুন বলে দেখাতে চাইলেও তৃণমূল প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল, এটা আত্মহত্যার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার বিবেক দুবের এই রিপোর্টে দিনহাটায় বিজেপি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনায় তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই এলাকায় নিশীথ প্রামাণিকের প্রার্থীপদ বাতিল করার দাবি তোলা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় দিনহাটায় বিজেপি যে কিছুটা পিছিয়ে পড়বে তা মানতে নারাজ দলের জেলা নেতৃত্ব। বরং ঘটনায় আরও ভালো করে তদন্ত করে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া উচিত ছিল বলে দাবি করেছে তারা।

গত ২৪ মার্চ দিনহাটা শহরে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অমিত সরকারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আর এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দিনহাটা শহর। ওই নেতাকে তৃণমূলের লোকেরা খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানায়। ঘটনার পরের দিন কোচবিহারে আসেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে। কোচবিহারে তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করার পাশাপাশি দিনহাটায় গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন। এই অবস্থায় সোমবার তিনি অমিত সরকারে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার রিপোর্ট পেশ করেন কমিশনে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খুন নয়, আত্মহত্যা করেছেন ওই বিজেপি নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পেয়ে তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন। এমনকি তিনি ওষুধ খাওয়া বন্ধও করে দেন। এরপরই গত ২৩ মার্চ রাতে বাড়ি থেকে দূরে গিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। তাঁর পকেট থেকে যে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে, তাতে তিনি এক মহিলা বিজেপি কর্মীর আচরণ নিয়ে হতাশার কথাও উল্লেখ করেছেন। বিবেক দুবে মৃতের স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনিও নাকি তাঁর কাছে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। আর বিবেক দুবের এই রিপোর্টের কথা জানাজানি হতেই বিষয়টি নিয়ে বিজেপিকে বিঁধতে শুরু করেছে তৃণমূল।

দিনহাটার তৃণমূলের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা তা প্রথম দিন থেকেই আমার মন বলছিল। বিজেপি কর্মীর পকেট থেকে একটি চিরকুট মিলেছে। সেখানে একজন মহিলা সহ তিনজনের নামও রয়েছে। কিন্তু পুলিশ কেন এখনও বসে রয়েছে। কেন তাদের ধরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না?’ অবিলম্বে এই তিনজনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন উদয়নবাবু। পাশাপাশি ঘটনার প্রতিবাদে যারা ভাঙচুর চালিয়েছে তাদের শাস্তির দাবিও তুলেছেন। তা না হলে পরিবর্তিতে তাঁরা দিনহাটা থানায় ধর্না দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান উদয়নবাবু।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘বিজেপি চক্রান্ত করে রাজনীতির ফায়দা তুলতে পরিবেশকে অশান্ত করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা করছে। বিজেপির এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে ১০ এপ্রিল ভোটবাক্সে এর জবাব দেবেন মানুষ।’

যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, ‘আমরাও ধন্দে রয়েছি এই রিপোর্ট দেখে। প্রার্থীপদ না পাওয়ার জন্য অবসাদে ভুগছিলেন এটা একেবারেই সত্য কথা নয়। কারণ তিনি প্রার্থীর জন্য আবেদনই করেননি। ফলে এটা পুরোপুরি অবাস্তব কথা। মহিলা সম্পর্কে কিছু থাকলে আমরা তা জানতাম। কারণ অমিত মহিলাদের খুবই সম্মান করতেন।’