ভোট আসে ভোট যায়, দিনমজুরদের কোনো পরিবর্তন হয় না

109

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ভোট আসছে প্রতিশ্রুতি মিলছে। ভোট যাচ্ছে প্রতিশ্রুতি চাপা পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দিনমজুরগুলির দিন বদলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটছে না। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে গ্রামের র‍্যাশন ডিলার শুধু ফুলে ফেঁপে উঠছে। গ্রামের নিঃস্ব মানুষগুলির নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো অবস্থা। মিলছে না সরকারি সুযোগ সুবিধা, র‍্যাশন থেকে পাচ্ছে না তাদের প্রাপ্য র‍্যাশন সামগ্রী।

লকডাউনের সময় থেকে অসহায় অবস্থার মধ্যে আছে রায়গঞ্জের আশপাশের গ্রামের দিনমজুরগুলি। এক সময়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করলেও লকডাউনের পর আর ভিন রাজ্যে ফিরে যেতে পারেনি।ফলে গ্রামেই থাকতে হচ্ছে। দিনমজুর কাজের জন্য কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে রায়গঞ্জে আসলেও প্রায়দিন কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। সারাদিন কাজ করলে জোটে ৩০০ টাকা। বেলা শেষে কাজ না পেলে আবার কোনো দিন ২০০ টাকার মজুরীতে কাজ করতে হয়। রায়গঞ্জ শহরের দেবীনগর কালিবাড়ি, বিদ্রোহী মোড় ও দেহশ্রী মোড়ে সকাল হলেই দেখা যায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে দিনমজুরগুলি ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে হাজির হন।সকাল ৮-৯টার মধ্যে কাজ না পেলে খালি হাতেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। শহরে এরা কেউ জঙ্গল পরিস্কার করে, কেউ মাটি কাটে। আবার কেউ কেউ বাঁশের বেড়া বাধে।

- Advertisement -

সকালে তাদের আড্ডাস্থলে শহরের কোনো মানুষ সাইকেল অথবা মোটর বাইক নিয়ে গেলেই কাজের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।বেশ কিছুক্ষণ চলে দামাদামি। ৩৫০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং শেষ হয় ২০০ টাকায় গিয়ে। তাও অধিকাংশ দিন কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। সাইরুল হক বাড়ি ইটাহার ব্লকের পাজোলে বাড়ি। তিনি সকাল হলেই সাইকেল করে  প্রতিদিন চলে আসেন দেবীনগর কালিবাড়িতে। সঙ্গে থাকে কোদাল ও ঝুড়ি। এদিন সকাল ৯টা নাগাদ কালিবাড়িতে দেখা গেল সাইরুল হক কাজের জন্য একে ওকে বলছেন, কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে ভিন রাজ্যে কাজ করেছি।লকডাউনের সময় বাড়ি ফিরেছি,পরিবার ছেড়ে আর যেতে পারিনি। কিন্তু গ্রামেও কাজ নেই, শহরেও কাজ নেই। প্রায়দিন ঘুরে যেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা কোনো সুযোগ সুবিধা দেয় না। র‍্যাশন ডিলাররা প্রাপ্য র‍্যাশন সামগ্রী দিচ্ছে না। তাই ভোট নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই। আমাদের মতো মানুষের লাভের লাভ কিছুই হয় না। ইটালের বাসিন্দা হীরেন সিং বলেন, ‘প্রতিদিন লেবারের কাজের জন্য শহরে আসি। কিন্তু প্রতিদিন কাজ জোটে না। পঞ্চায়েত থেকে কোনওরকম সাহায্য পাই না।’ তিনি বলেন, ‘বন্যার সময় বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেলেও পঞ্চায়েত থেকে এক টাকাও পাইনি। ভোট নিয়ে নেতারা মাতামাতি করেন, আমাদের মতো মানুষের কোনো লাভ হয় না।’

দূর্গাপুর চেরামাটির বাসিন্দা সাফিউল মহম্মদ নামে আরও এক দিনমজুর বলেন, ‘প্রতিদিন  প্রায় ১৫ কিমি সাইকেল চালিয়ে শহরে আসি। সারাদিন কাজ করে যা পাই তা দিয়ে চলে যাই। তবে প্রায় কাজ না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। দিন আনি দিন খাই অবস্থা। আমাদের কথা কেউ ভাবে না এবং পঞ্চায়েত থেকে কোনো কিছুই পাই না। তাই ভোট দেওয়ার দেব, ওটা নিয়ে মাতামাতি নেই আমাদের।’