যোগেশ বর্মনের লাল দুর্গে এখন দুই ফুলের চাষ

141

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা : এবার বিধানসভা নির্বাচনে ফালাকাটার ভুটনিরঘাট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একদা লালঝান্ডার এই শক্ত ঘাঁটিতে এখন পতপত করে উড়ছে জোড়াফুল ও পদ্মফুলের পতাকা। বামফ্রন্টের প্রয়াত মন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মনের জন্মস্থান ভুটনিরঘাটে এখন যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ হল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। ভোটের মুখে উভয় দলের তরফেই ভুটনিরঘাটে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। ঘনঘন দুই দলের কর্মসূচিতেও ভিড়ও বাড়ছে। মানুষের উদ্দীপনা দেখে এই এলাকায় ভোটে লিড পেতে মরিয়া ঘাসফুল ও পদ্মফুল শিবির। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সিপিএম। এখানকার সাংগঠনিক ঘাটতির কথাও বাম নেতারা মেনে নিয়েছেন। এমনকি যোগেশচন্দ্র বর্মনের পরিবারও প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেই।

একসময় সিপিএমের লালদুর্গ বলে পরিচিত ছিল ফালাকাটা। ৩৪ বছরের বাম রাজত্বে ফালাকাটায় টানা চারবারের বিধায়ক ও তিনবারের মন্ত্রী ছিলেন যোগেশচন্দ্র বর্মন। তখন বাম রাজনীতি ভুটনিরঘাটকে কেন্দ্র করে অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হত। মন্ত্রীর বাড়িতে সকাল হতেই মানুষের ভিড় জমত। তখন থেকেই মুজনাই নদীতীরের ভুটনিরঘাটের পরিচিতি বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে। বিধায়ক, মন্ত্রীর পাশাপাশি যোগেশচন্দ্র বর্মন ছিলেন ভুটনিরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর আমলে ওই এলাকায় উন্নয়নও হয়। তথাপি শেষ পাঁচ বছরে যোগেশবাবুর নিজ এলাকাতেই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার জেরে পিছিয়ে যায় সিপিএম। আর ২০১১ সালে পরিবর্তনের ধাক্কায় ভুটনিরঘাট সহ ফালাকাটায় বাম দুর্গ ভেঙে যায়। ভুটনিরঘাট এলাকাটি গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। ২০১১ থেকেই ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস সক্রিয় হয়ে ওঠে। গ্রাম পঞ্চায়েতও তৃণমূলের দখলে চলে আসে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই এলাকায় প্রভাব থাকে শাসকদলের। কিন্তু ২০১৮-র পঞ্চায়েত ও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে ভুটনিরঘাটে উত্থান ঘটে বিজেপির। এখন যে কোনও সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলকে টক্কর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। এদিকে, গুয়াবরনগরেরই প্রাক্তন প্রধান সুভাষ রায় এখন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি এবং দলীয় প্রার্থী। তাই এই এলাকার দিকে বাড়তি নজর রয়েছে বিরোধীদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভুটনিরঘাটে যেসব মানুষের হাতে একসময় লালঝান্ডা ছিল, তাঁদের হাতেই এখন ঘাসফুল ও পদ্মফুলের পতাকা উড়ছে। তবে ফালাকাটার অন্য এলাকায় কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও ভুটনিরঘাটে আর বাম সংগঠন সেভাবে সক্রিয় হতে পারেনি। ওখানকার সিপিএমের অনেক নেতাই এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন।

- Advertisement -

ভুটনিরঘাট প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃণালকান্তি রায় বলেন, ওখানে আমাদের সংগঠন এখনও কিছুটা দুর্বল রয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই আমাদের সঙ্গে রয়েছে। ভুটনিরঘাট এখনও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক। ওখানকার নতুন প্রজন্মের একাংশ যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে ডিওয়াইএফআই-এর জেলা সভাপতি বাপন গোপ জানিয়েছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়াও ভুটনিরঘাটে মাঝেমধ্যে শাসকদলের কর্মসূচি হচ্ছে। তৃণমূলের প্রার্থী তথা ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ভুটনিরঘাট আমাদের কাছেও প্রাসঙ্গিক। আমার বাড়িও এখানে। এই অঞ্চলে অনেক আগে থেকেই আমাদের সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। আমরা এবার বিজেপির থেকেও বেশি ভোট পাব। তবে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ভুটনিরঘাট সহ গুয়াবরনগর অঞ্চলে বিজেপির জনবল অনেক বেড়েছে। এ বছর আমরা ওই অঞ্চল থেকে অন্ততপক্ষে দুহাজার ভোটের লিড নিয়ে জিতব। প্রয়াত মন্ত্রীর ছেলে ধ্রুবজ্যোতি বর্মন অবশ্য বলেন, আমি পেশা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। বর্তমানে আমার পরিবার সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেই।