খুন হওয়ার অপেক্ষায় আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা মেয়র জারিফা

325

কাবুল : তালিবানরা যে এমন ঝড়ের গতিতে কাবুলের দখল নেবে, তা দুসপ্তাহ আগেও কল্পনায় ছিল না তাঁর। ভেবেছিলেন, মার্কিন সেনা চলে গেলেও আফগানিস্তানের জনজীবন স্বাভাবিক ছন্দেই চলবে। কিন্তু তা হল না। ক্ষমতায় ফেরার পর তালিবানদের নিশানায় বিরোধীরা। সমালোচকদের একে একে প্রাণে মেরে ফেলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে সে দেশের প্রথম মহিলা মেয়র জারিফা গাফারির। কিন্তু তিনি হার মানবার মানুষ নন।

গত বছর মার্চ মাসে তাঁর অদম্য সাহসের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন সরকার। ২৯ বছর বয়সী মহিলা মেয়রের জীবনে বারতিনেক তালিবান হামলা হয়েছে। তাঁর বাবাকে গুলি করে মেরেছে তালিবানরা। আজ যখন আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা তখনও তিনি পিছু হঠতে রাজি নন। তাঁকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেকে। তাঁর ভাই কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে নিরাপদ কোনও দেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশ ছেড়ে পালালে একজন জাফারি হয়তো বেঁচে যাবে কিন্তু দেশের লক্ষ, লক্ষ জাফারিকে তো দেশেই থাকতে হবে।

- Advertisement -

সংবাদ সংস্থাকে এক সাক্ষাৎকারে জারিফা জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে বাড়িতেই রয়েছেন তিনি। আর ভাবছেন, এই বুঝি কপাটে করাঘাত হল। দরজা ভেঙে ঘরের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল তালিবান জঙ্গিরা। তারপর একে একে খুন করল পরিবারের সকলকে। ভাঙা গলায় জারিফা বলেন, আমি বসে আছি। আমার পরিবারও সঙ্গে রয়েছে। কেউ আমাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেনি। আমি এভাবেই অপেক্ষা করব। আমি আমার পরিবারকে ছেড়ে কোথাও যাব না। ওরা আসুক, আমাকে খুন করুক। তাঁর প্রশ্ন, আমি এখন কোথায় যাব? দেশের প্রেসিডেন্ট পালিয়ে যাওয়ার পর একই অবস্থা সেখানকার সব সরকারি কর্মীর।

কয়েক সপ্তাহ আগে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জারিফা বলেছিলেন, দেশের উন্নত ভবিষ্যতের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। যদিও সেই আশা অচিরেই ভেঙে যায়। জারিফা ২০১৮ সালে দেশের ময়দান ওয়ারদাক প্রদেশের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা মেয়র হয়ে নজির গড়েছিলেন। এই প্রদেশে তো বটেই, আফগানিস্তানেও তাঁর আগে কোনও মহিলা মেয়রের চেয়ারে বসেননি।

কাবুলে তালিবান হামলায় জখম সেনা ও সাধারণ নাগরিকদের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জারিফাকে। মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার পর তালিবানরা ফের দেশের দখল নেবে কিনা প্রসঙ্গে জারিফার বক্তব্য ছিল, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান যুবসমাজ সচেতন। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে। গোটা পৃথিবীর হালহকিকত্ তাদের জানা। আমি মনে করি, তারা দেশের অগ্রগতি ও উন্নতির স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যাবে। কিন্তু জারিফার আশা পূরণ হয়নি। তালিবানরা আফিগানিস্তানের দখল নেওয়ায় আতঙ্কে কাঁটা হয়ে রয়েছেন মহিলারা।