মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে নদীর তীরে নৌকার অপেক্ষা

শেখ পান্না, রতুয়া : জলের তোড়ে কদিন আগেই ভেসে গিয়েছে নির্মীয়মাণ কাঠের সেতু। ঘোর বর্ষায় নদী পারাপারের জন্য এখনও পর্যাপ্ত নৌকা নেই। এর ফল ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হল গ্রামবাসীদের। মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় প্রায় ঘণ্টাখানেক। শেষ পর্যন্ত ওপার থেকে নৌকো এসে সেই মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যায়। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের পিরপুর গ্রামে।

রতুয়া-২ ব্লকের আড়াইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে একমাত্র পিরপুর গ্রামটি কালিন্দ্রী নদীর ওপারে। গ্রামে কয়েক হাজার বাসিন্দাকে প্রতিদিনের প্রয়োজনে নদী পেরিয়ে আসতে হয়। আগে কালিন্দ্রীর উপর প্রতি বর্ষায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে সেখানে একটি কাঠের পাকাপোক্ত সাঁকো তৈরির জন্য ৫৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এলাকার তৎকালীন সাংসদ মৌসম নুর নিজের সাংসদ কোটার টাকা থেকে সেই সাঁকো তৈরির জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। দক্ষিণ মালদার সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরিও তাঁর কোটা থেকে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন। এছাড়া রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় ও মানিকচকের বিধায়ক মোত্তাকিন আলম বিধায়ক কোটা থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেন। সাঁকো তৈরির বরাত দেওয়া হয় একটি নির্মাণকারী সংস্থাকে। কিছুদিন আগে সাঁকো তৈরির কাজও শুরু হয়। কিন্তু গত শনিবার কালিন্দ্রীর জলের তোড়ে নির্মীয়মাণ সেই সাঁকো ভেঙে পড়ে। এর জন্য নির্মাণকারী সংস্থাকেই দুষেছিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, শুখা মরশুমে সাঁকোর কাজ করা উচিত ছিল। তা না করে নদীর জল যখন বাড়তে শুরু করে, তখন সেতু তৈরির কাজে হাত দেয় নির্মাণকারী সংস্থা। শুধু পিরপুর নয়, এই সাঁকোর ওপর ভরসা করে রয়েছে পরাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যোগনীগ্রাম, ব্রাহ্মণগ্রাম, সাহেবনগর এবং মানিকচকের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দারাও। সেতু না থাকায় তাঁদের নৌকোর ওপরেই ভরসা করতে হয়। কিন্তু নদীতে নৌকাও পর্যাপ্ত নেই। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় সবাইকে।

- Advertisement -

শুক্রবার তারই খেসারত দিতে হয়েছে একদল গ্রামবাসীকে। এদিন যোগনীগ্রামের এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়। সৎকারের জন্য নদী পেরিয়ে গোবরজন্না শ্মশানে মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু নদীর ঘাটে পৌঁছাতেই বিপত্তি। নৌকো নেই। শেষ পর্যন্ত প্রায় ঘণ্টাখানেক পর নৌকার দেখা মেলে। দেড় ঘণ্টা পর মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। এক শ্মশানয়াত্রী শম্ভু মণ্ডল বলেন, মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা নদীর ঘাটে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। তারপর নৌকার দেখা পাওয়া যায়। বর্ষা এলেই আমাদের নদী পেরোতে সমস্যা হয়। এর আগে সাঁকো ছিল। কিন্তু এবার সেই সাঁকোও নেই। এতে শুধু আমাদের গ্রাম নয়, সমস্যায় পড়েছে সাত থেকে আটটি গ্রামের বাসিন্দারা। আমরা দ্রুত এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি। একই দাবি আরেক গ্রামবাসী বিপ্লব মণ্ডলেরও।

বিষয়টি নিয়ে রতুয়া ২-ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক সোমনাথ মান্না বলেন, নৌকো চালানোর বিষয়টি পঞ্চায়েত সমিতি দেখাশোনা করে না। এক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আমি যতদূর জানি, ওই ঘাটে নৌকো পারাপার করে। পর্যাপ্ত নৌকোর ব্যবস্থা করা যায় কি না তা দেখা হচ্ছে। এখনও আমি এনিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবু বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলব।