চুরি আটকাতে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভরসা চৌকিদার

315

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ি শহরজুড়ে সম্প্রতি যেভাবে একের পর এক ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যেকটি ঘটনার পরেই মেট্রোপলিটান পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা। রাতের শিলিগুড়িতে পুলিশ প্রহরা থাকে না বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। তাই পুলিশের বদলে পুরোনো চৌকিদাররা ভরসা জোগাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। পুরনিগমের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাতে প্রতিদিন টহল দিচ্ছেন চৌকিদাররা। বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে চৌকিদারদের বেতন দিচ্ছেন।

প্রথমে গোল্ড ফিনান্স কোম্পানির অফিসে ডাকাতি, তারপর ঘোগোমালি, দক্ষিণ বাবুপাড়া, রবীন্দ্রনগর, আশিঘর সহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক দোকান-বাড়িতে চুরি হয়েছে। পুজোর আগে থেকে এই ধরনের ঘটনায় শহরের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বারবার সামনে চলে এসেছে। বাসিন্দাদের নিরাপদে রাখতে তাই ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির তরফে দুজন চৌকিদারকে দাযিত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠোঁটে বাঁশি, কাঁধে ঝোলানো বড়ো টর্চলাইট, কোমরে খুকরি, আর সাইকেলের পিছনে লাঠি। এর ভরসাতেই প্রতিদিন পাহারা দেন দুই চৌকিদার। রাত বারোটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত চলে টহল। এক চৌকিদার বলেন, দুজনে মিলে ওয়ার্ড ঘুরে ঘুরে পালা করে নজর রাখি। বেশ কিছুদিন ধরে এই ব্যবস্থা চলছে। মাঝে মাঝে কয়েকজনকে ঘুরতে দেখি। আমাদের আসতে দেখে পালিয়ে যায় তারা। চেষ্টা করি যাতে প্রতিটি জায়গায় নজর রাখা য়ায়। তবে পুলিশকে সেভাবে টহল দিতে দেখিনি। আরেক চৌকিদার বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য খুকরি, লাঠি রাখি। প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরির ঘটনার খবর পাচ্ছি। তবে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বড়ো চুরির ঘটনা ঘটেনি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সীমা সাহা বলেন, অন্য কোনো ওয়ার্ডে নিরাপত্তার জন্য চৌকিদার রাখা আছে কিনা জানা নেই। আমরা থানার সঙ্গে কথা বলে ওয়ার্ড কমিটির তরফে দুজন চৌকিদারকে রেখেছি। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এর জন্য ১০ টাকা কর দেন। যা থেকে ওই নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন দেওয়া হয়। কাউন্সিলার আরও বলেন, শহরের মানুষ চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দুষ্কৃতীদের মধ্যে কিছু যুবক নেশার সামগ্রী জোগাড় করার জন্য চুরি করছে। এলাকায় মানুষ ঘরের জানালা খুলে ঘুমোতে ভয় পাচ্ছিলেন। দুষ্কৃতীরা জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে জিনিসপত্র চুরি করে যাচ্ছিল। পুলিশের টলহদারি না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। তাই রাতের এই চৌকিদারই ভরসা। এই বিষয়ে শিলিগুড়ির এক পুলিশ কর্তা বলেন, সব এলাকাতেই পুলিশি টহলদারি চলছে। দুষ্কৃতীরাও ধরা পড়ছে।

- Advertisement -