বাইরে গরম নিযে নাজেহাল? খাবার পাতটা ঠান্ডা রাখুন। তাহলে শরীর ঠান্ডাও বটে, সুস্থও বটে। সবার আগে কী খাচ্ছেন এবং কেন খাচ্ছেন, সেটা সঠিকভাবে জানা জরুরি। তাহলে গরম আর দাঁত ফোটাতে পারবে না।

যত দিন যাচ্ছে, চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা আট থেকে আশির। তীব্র দাবদাহে সুস্থ থাকতে হলে সবার আগে সামলে রাখতে হবে পেট। বদলে ফেলতে হবে খাদ্যাভ্যাস। তেলেভাজা, মশলাদার খাবার এড়িযে থাকতে তো হবেই। সেই সঙ্গে এমন কিছু খাবার পাতে রাখুুন, যা গরমকে আর কাছে ঘেঁষতে দেবে না। আসুন, জেনে নেওযা যাক এ সময মেনুচার্টটা ঠিক কেমন হবে।

নজর দিন সবজিতে
গরমে শরীর ঠান্ডা করতে সবচেযে কার‌্যকর সবজি হল শশা। সুস্থ থাকার জন্য শশার চেযে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। ফাইবারে ভরপুর শশা খাবার হজম করিযে ফেলে দ্রুত। তাই তরকারি বা স্যালাডে যতটা সম্ভব শশা খান।
এরপর আসছে লাউযে কথা। চাঁদিফাটা গরমে লাউযে সমান উপকারী আর বিশেষ কেউ নেই। লাউযে আছে বিরানব্বই শতাংশ জল। এছাড়াও রযেে প্রচুর ফাইবার। জলের ঘাটতি মিটিযে শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করে লাউ। এছাড়াও এর মধ্যে রযেে ক্যালসিযাম, সোডিযাম, জিঙ্ক, আযরন ও ম্যাগনেসিযাম। তাই লাউ খুবই পুষ্টিকর।
তেতো স্বাদের জন্য করলা বা উচ্ছে কারও খুব একটা প্রিয নয। কিন্তু করলায রযেে পলিপিটাইড পি নামে এক যৌগ। স্বাভাবিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিযন্ত্রণে সাহায্য করে এই যৌগ। এতে ক্যালোরি আছে নামমাত্র। তাই ওজন নিযন্ত্রণে রাখতে এই দুটি সবজি খুব জরুরি। তাছাড়া পেটও ঠান্ডা রাখে।
ঢ্ঁযাড়শ আসলে অত্যন্ত সহজপাচ্য। গ্রীষ্মে এমন জিনিস খুব উপকারী। কারণ গ্রীষ্মের সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যায। হজম ঠিকঠাক হলে এই সমস্যার হাত থেকেও রেহাই মেলে। ঢ্ঁযাড়শ আবার আলাদা করেও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিযন্ত্রণে রাখতে এর জুড়ি নেই।
একটু ডাবে চুমুক
এই প্রচণ্ড গরমে উষ্ণ পানীযে থেকে ঠান্ডা কিছুতে চুমুক দিতে বেশি মন চায। এ সময কচি ডাবের জল যেন অমৃত। এই তীব্র দাবদাহে ডাবের মতো শান্তি আর কিছুতেই নেই। তবে শুধু তেষ্টা মেটাতেই নয, গরমে শরীর ভালো রাখতেও ডাবের জল অত্যন্ত উপকারী। কীভাবে সাহায্য করে ডাব? দেখা যাক।
প্রচণ্ড গরমে শরীরের ঘামের সঙ্গে অনেকটা জল বেরিযে যায। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায। একই সঙ্গে ডিহাইড্রেশনের সমস্যাও মাথাচাড়া দিযে ওঠে। শরীরের ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচাতে ডাবের জল খুবই উপকারী। আবার ডাবের জলের কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তির ঘাটতিও পূরণ করে।
গরমের তীব্র দাবদাহে রক্তচাপ মারাত্মক বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে উলটোটাও হয। ঘামের সঙ্গে অতিরিক্ত জল বেরিযে গিযে রক্তচাপ কমিযে দেয। এই পরিস্থিতিতে ব্লাডপ্রেশার নিযন্ত্রণে রাখতে ডাবের জল খুব কাজ দেয। ডাবের জলে থাকা ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিযাম আর পটাশিযাম রক্তচাপ নিযন্ত্রণ করে। তাই ডাবে ভরসা রাখতেই পারেন।
গরমে কচি ডাবের জল শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরে পটাশিযাম, সোডিযামের মাত্রা নিযন্ত্রণ করে।
ডাবের জলে যেহেতু চিনি খুব পরিমাণে থাকে, তাই ওজন বেড়ে যাওযার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি ফাইবার থাকার দরুণ এ জল সহজপাচ্য। দ্রুত হজম করাতেও সাহায্য করে।
ডাবের জল রক্তে শর্করার পরিমাণ নিযন্ত্রণ করে। তাই গ্রীষ্মে ডাযাবেটিক রোগীদের জন্যও ডাবের জল খুব উপকারী।

চা যদি খান…
না, গরম বলে যে চা একেবারে চলবে না, তা নয। বিশেষ করে চাযে নেশা যাঁদের, তাঁরা তবে কোথায যাবেন। চাযে ক্ষতি নেই। তার সঙ্গে কযেটা জিনিস মিশিযে নিলেই হল।
মৌরি চা- শরীর ঠান্ডা রাখতে মৌরি অত্যন্ত কার‌্যকর একটা উপাদান। হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা সমাধান করে ফেলে এই চা। দু কাপ চাযে জন্য এক চামচ মৌরি নিন। ফুটন্ত জলে মৌরি দিযে ভালো করে ফুটিযে নিন। দিনে অম্তত একবার খান।
এলাচ চা- গরম মানেই অম্বল, বুকজ্বালার মতো হাজারো সমস্যা। এলাচ চা এক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী। দু কাপ চাযে জন্য জন্য দুটো এলাচই যথেষ্ট। ওভাবেই ফুটিযে নিন। প্রতিদিন একবার করে খান।
হলুদ চা- গরমে তেতেপুড়ে ত্বক তার ঔজ্জ্বল্য হারায। শরীর সুস্থ রাখতে আর ত্বকের পরিচর‌্যায হলুদ চা অব্যর্থ। রক্ত পরিষ্কার করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায। এককাপ চাযে জন্য এক চিমটে হলুদই যথেষ্ট।