কোচবিহারের রাজমাতাদিঘিতে কেচে কাপড় শুকানো হচ্ছে  শিশু উদ্যানে

416

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহারের রাজরাজেন্দ্রনারায়ণ রোড লাগোয়া রাজমাতাদিঘিতে অবাধেই কাপড় কাচা চলছে। শুধু তাই নয়, দিঘিটির দক্ষিণ দিকের শিশু উদ্যানজুড়ে জামাকাপড় শুকোতে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উদ্যানটিতে শিশুদের খেলাধুলো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি, শিশু উদ্যানটির কোনো গেট না থাকায় যখন তখন গবাদিপশু সেখানে ঢুকে পড়ছে। এসবের ফলে উদ্যানটির সৌন্দর্যহানি ঘটছে। প্রতিদিন সকাল হলেই অনেককে দিঘির জলে জামাকাপড় কাচতে দেখা যায়। অবাধে দিঘির জলে কাপড় কাচা চললেও পুরসভাকে কোনোরকম উদ্যোগ নিতে দেখা য়ায় না। দিঘির জলে জামাকাপড় ধোয়ায় দিঘিটি ক্রমশ দূষিত হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের ক্ষোভ বাড়ছে।

দিঘি সংলগ্ন এলাকাতেই রয়েছে বাসস্ট্যান্ড। বহু মানুষ সেখানে আসেন। এছাড়া কোচবিহার জেলার পর্যটন মানচিত্রে রাজমাতাদিঘি ও রাজমাতামন্দির রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিঘিতে দিনের পর দিন জামাকাপড় ধোয়া চললেও পুরসভা এবং প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না কোচবিহারের বাসিন্দারা সেই প্রশ্ন তুলেছেন। শহরের বাসিন্দা পায়েল দাস বলেন, মাঝেমধ্যেই দেখি, কয়েকজন ওখানে কাপড় কাচছে। রাজমাতাদিঘি কোচবিহারের গর্ব। দিঘিটি যাতে দূষণমুক্ত থাকে, সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হওয়া দরকার। দিঘির জলে কাপড় কাচা কখনোই উচিত নয়। অপর এক বাসিন্দা তপন জানার কথায়, ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে দিঘির জলে কাপড় কাচা হচ্ছে। যা একেবারেই ঠিক নয়। জলে ফেলা হচ্ছে আবর্জনাও। সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের নজরদারির অভাবেই এই সমস্ত কাজ হচ্ছে। এ ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

- Advertisement -

পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, দিঘির জলে কাপড় কাচা কখনোই উচিত নয়। এতে দিঘির বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়ে। দিঘির পাশে থাকা শিশু উদ্যানে কাপড় শুকোতে দেওয়ায় দৃশ্যদূষণ হচ্ছে। এবিষয়ে এলাকার ক্লাব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকা উচিত।  ওই এলাকার কাউন্সিলার রঞ্জন ভট্টাচার্য অবশ্য দাবি করেন, বাইরের কিছু মানুষ দিঘিতে জামাকাপড় কাচছে। তা শুকোতে দিচ্ছে শিশু উদ্যানে। এতে দৃশ্যদূষণের পাশাপাশি জলও দূষিত হচ্ছে। কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে শীঘ্র ব্যবস্থা নেওয়া হবে।