পানীয় জলের লাগামহীন অপচয় চলছে

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর : হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার প্রত্যন্ত বহু গ্রামে এখনও পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছায়নি। যেখানে জল মিলছে, সেখানেও পিএইচইর ট্যাপকলগুলির বিবকক কেউ বা কারা ভেঙে দিয়েছে। ফলে ভাঙা অংশ দিয়ে প্রায় সারাদিনেই পরিস্রুত পানীয় জলের অপচয় হচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন এলাকায় দিনের পর দিন পানীয় জলের অপচয় হলেও প্রশাসনিক স্তরে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বারদুয়ারী ব্লক অফিস যাওয়ার রাস্তার ধারে দুজায়গায় এমন জল অপচয়ে ছবি ধরা পড়েছে। একটি বারদুয়ারী দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকায়। অপরটি হরিশ্চন্দ্রপুর- ২ ব্লক অফিস থেকে ১০০ মিটার দূরে। ওই দুই জায়গাতেই ট্যাপকল থেকে পরিস্রুত পানীয় জল বের হয়ে রাস্তায় জমা হচ্ছে। কোথাও বা নর্দমায় পড়ছে। এলাকার বাসিন্দা অজিত সাহা বলেন, জল হল জীবন। এই জল অপচয়ে ব্যাপারে স্থানীয় মানুষকে আরও সচেতন হওয়া উচিত। পরিস্রুত পানীয় জল দিয়ে যাতে অন্য কোনও কাজ না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে কড়া নজর রাখা উচিত। এইভাবে পরিস্রুত পানীয় জল নষ্ট হলে আগামী প্রজন্ম ক্ষতির মুখে পড়বে।

- Advertisement -

হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা চন্দ্রকুমার মিশ্র জানান, পরিস্রুত পানীয় জল তৈরি করতে সরকারের লিটার প্রতি আনুমানিক ৬ টাকা খরচ হয়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নেমে যাচ্ছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ জায়গায় খরাপ্রবণ হয়ে উঠছে। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা ভয়াবহ খরার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাই মানুষকে জল অপচয়ে ব্যাপারে সচেতন না হলে আগামীতে চূড়ান্ত দুর্দশার সম্মুখীন হতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, মানুষের কাছে সব থেকে বড় হল বিবেক। আমরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগত পরিষেবা নিয়ে যতটা সচেতন থাকি, সরকারি পরিষেবাগুলির প্রতিও একইভাবে নজর দেওয়া দরকার। জল অপচয় রুখতে সকলকেই সচেতন হতে হবে।

চাঁচল মহকুমার পিএইচই-র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পঙ্কজকুমার রায় বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। পিএইচইর দপ্তর থেকে বহুবার কলগুলিতে বিবকক বসানো হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিবককগুলি থেকে জল একটু আস্তে পড়াতেই সেগুলি ভেঙে দিচ্ছেন। বহুবার ওয়েল্ডিং করে পার্মানেন্ট কল বসানো হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হচ্ছে না। আমরা দপ্তর থেকে সবলা মেলা ও বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে এ নিয়ে প্রচার চালিয়েছি। তাতেও এভাবে জল অপচয় বন্ধ হচ্ছে না। সমস্যা মেটাতে এলাকার সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। জল অপচয়ের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।