ট্যাপকলে বিপকক না থাকায় জল অপচয় হচ্ছে

হরিরামপুর : সেই ট্র‌্যাডিশন সমানে চলছে। বিপকক নেই সরকারি জল সরবরাহের ট্যাপে। নষ্ট হচ্ছে পানীয় জল। পানীয় জলের এই অপচয়  রুখতে তাই স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা প্রশাসনিক নজরদারির দাবিতে সরব হয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হরিরামপুরের বিডিও জানিয়েছেন।

হরিরামপুর থানার অন্তর্গত হরিরামপুর, ধানাইপুর, বাগিচাপুর সহ বেশকিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সরকারিভাবে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। এর জন্য রাস্তার পাশেই ট্যাপকল রয়েছে। কিন্তু সেই ট্যাপকলগুলির অধিকাংশের মুখে কোনো বিপকক লাগানো নেই। ফলে একবার জল সরবরাহ শুরু হলে নির্দিষ্ট সময় ধরে জল পড়তেই থাকে। এতে পানীয় জলের অপচয় হয়। জলের এই অপচয় বন্ধ করতে কয়েক মাস আগে বেসরকারি ও সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলেও আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে বলে হরিরামপুরের মানুষজন অভিযোগ তুলেছেন। সারা বিশ্ব জুড়েই পানীয় জলের সংকট দেখা দেওয়ায় যখন ভূগর্ভস্থ জল সঞ্চয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তখন পানীয় জলের এইরকম অপচয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষও।

- Advertisement -

হরিরামপুর এএসডিএম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, সরকারি নজরদারি লাগাতার করতে হবে। নচেৎ এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। প্রাথমিক শিক্ষক শান্তনু দাস বলেন, স্থানীয় বেশকিছু মানুষের সহযোগিতায় কয়েক মাস আগে কিছু ট্যাপকলের মুখে বিপকক লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সচেতনতার অভাবে বিপককগুলি থাকছে না। তাঁর মতে, সরকারিভাবে প্রতিটি ট্যাপের এরিয়ার মানুষদের নিয়ে একটি কমিটি করে দেখার জন্য দায়িত্ব দিক পঞ্চায়েত বা ব্লক প্রশাসন। তবেই এই জল অপচয় বন্ধ হতে পারে। তবে পঞ্চায়েতের আরও বেশি তৎপর হওয়া দরকার। এই প্রসঙ্গে বাগিচাপুর পঞ্চায়েতের প্রধান গুলজার আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত খুললে মেম্বারদের নিয়ে আলোচনায় বসবেন। হরিরামপুরের বিডিও শ্রীমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সচেতনতার অভাবে এমনটা হচ্ছে। আগামীতে সর্বত্রই এই বিষয়ে প্রচার ও সরাসরি জল সংগ্রহকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায় কীভাবে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।