সুলকাপাড়ায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু

238

নাগরাকাটা: সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হল নাগরাকাটার সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। আপাতত এলাকার ২১টি গ্রাম সংসদের মধ্যে ৫টি সংসদকে দিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ওই নয়া ব্যবস্থার উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার ৩১সি জাতীয় সড়কের ধারে গাঠিয়া নদীর উপকণ্ঠে এক একর জমির ওপর গড়ে তোলা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) সমীরণ মণ্ডল। প্রতি বাড়ি থেকে সংগৃহীত বর্জ্য পৃথকীকরণের পর সেখানে প্রসেসিং এবং রিসাইক্লিং হবে।

জলপাইগুড়ি জেলার ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সুলকাপাড়াতেই এই ধরনের ব্যবস্থা প্রথম চালু হল বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত-প্রশাসনের আধিকারিকরা। অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পটি জেলার সদর ব্লকের খারিজা বেরুবাড়ি ও ময়নাগুড়ি ব্লকের খাগড়াবাড়ি দুই পঞ্চায়েতেও চালু হচ্ছে। এর বাইরে আরও বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকাতেও এটা চালুর প্রচেষ্টা চলছে। নাগরাকাটার আরও দুটি পঞ্চায়েতকে এজন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।’

- Advertisement -

গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার ৫টি সংসদের ১৩২১টি পরিবার এই ব্যবস্থাপনার আওতায় আসছে। এর পাশাপাশি বাকি ১৬টি সংসদের ৫৬৮৮টি পরিবারকে বিকেন্দ্রীভূত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর অঙ্গ হিসেবে যে সমস্ত পরিবারে গবাদি পশু পালনের রেওয়াজ নেই সেই জনসংখ্যার ১০ শতাংশকে বর্জ্য ফেলার জন্য টুইন কমপোস্ট পিট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ৫৬৯টি পরিবার এরকম দুটি করে পিট পেয়েছেন। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বাইরে থাকা সংসদগুলির অন্যান্য পরিবারগুলিও ধাপে ধাপে এর আওতায় আসবে।

গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গ্রামীণ ও বস্তি এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতেই গবাদি পশু পালনের রেওয়াজ রয়েছে। ফলে সেখানে জৈব বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য আগে থেকেই সামাজিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অজৈব বা প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য যাতে তাঁরা সংরক্ষণ করে স্ক্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেয় সেজন্য তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটির পিছনে মোট খরচ হয়েছে সাড়ে ৮৩ লক্ষ টাকা। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প, মিশন নির্মল বাংলা, বিশ্ব ব্যাংক ও পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে ওই টাকা খরচ করা হয়েছে।

এখন থেকে ব্লক সদরের ৪টি ও সুলকাপাড়া বাজার এলাকা মিলিয়ে মোট ৫টি সংসদের জৈব কিংবা অজৈব বর্জ্য বাড়ি বাড়ি থেকে পরিবেশ বন্ধু নামে তৈরি করা একটি দলের সদস্যরা সংগ্রহ করে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটে পৌঁছে দেবেন। এজন্য মোট ৪টি ই-রিক্সাও দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘সবার সাথী’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। ওই ইউনিটে পৃথকীকরণের পর জৈব বর্জ্য দিয়ে কেঁচো সার তৈরি করা হবে। তা ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা থাকছে চাষিদের কাছে।

নাগরাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফিরোজ নুর পাটোয়ারি বলেন, ‘সুলকাপাড়া এব্যাপারে পথিকৃৎ হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।’ বিডিও বিপুল কুমার মণ্ডল বলেন, ‘১৩২১টি পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় যাঁরা এসেছেন তাঁরা যাতে বাড়ির জৈব ও অজৈব বর্জ্য জমিয়ে তা পরিবেশ বন্ধুদের কাছে তুলে দেয় সেজন্য বাড়ি পিছু দুটি করে বালতি দেওয়া হয়েছে।’

এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আশা ওরাওঁ (লামা), ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুপর্ণ হালদার সহ গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির অন্য সদস্যরা।