পানীয় জল সরবরাহের নামে সরকারি অর্থের অপচয়

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : বছর পেরোতে না পেরোতেই জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জলপ্রকল্পের ট্যাপকলে জল পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক জায়গায় ট্যাপকলই বসানো হয়নি। এদিকে, যে এলাকাগুলিতে ওই প্রকল্পের ট্যাপকল রয়েছে সেই এলাকাগুলিতেও সংখ্যালঘু দপ্তরের টাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য পাম্প ও গভীর নলকূপ বসানোর কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়। এক-একটি নলকূপ বসানোর জন্য বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি টাকা। অভিযোগ, এটি আর্থিক অপচয়। কারণ পাম্প থেকে জল নিতে গেলে বিদ্যুতের দাম দিতে হবে উপভোক্তাদেরই। ওই জল নিতে রাজি হবেন না কেউ। কারও কারও অভিযোগ, জল সরবরাহ নয়, নেতাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে মুনাফা লুঠতেই ফের পাম্প ও গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে।

রাঙ্গালিবাজনা চৌপথিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ট্যাপকল থেকেই জল মেলে। অথচ সেখানেও সংখ্যালঘু দপ্তরের অর্থানুকূল্যে পাম্প ও গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ গ্রামের সূত্রধরপাড়ার কৃষ্ণলাল সূত্রধরের বাড়ির পাশেই রয়েছে ট্যাপকল। অথচ ওই ট্যাপকলে জল সরবরাহের ব্যবস্থা না করে সেখানেই সংখ্যালঘু দপ্তরের অর্থানুকূল্যে পাম্প ও গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রকল্পের পাইপ মেরামত করলেই বিনা পয়সায় জল মিলতে পারে এলাকায়। তাই গাঁটের কড়ি খরচ করে পাম্প থেকে জল নিতে হবে কেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার অনেকেই। একইভাবে ট্যাপকল থাকা সত্ত্বেও পাম্প বসানো হয়েছে হেদায়েপুরেও। ওই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হোসেন, আজিনুর হক সহ অনেকেই জানান, তাঁরা ট্যাপকল থেকে জল পাননি কোনওদিনই। তবে গাঁটের কড়ি খরচ করে তাঁরা পাম্পের জল নেবেন না।

- Advertisement -

পশ্চিম খয়েবাড়ির মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা বাবুল রায় বলেন, পাইপ মেরামত করলেই ট্যাপকলে জল মিলবে। কিন্তু সেটা না করে নতুন প্রকল্পে পাম্প বসানো হচ্ছে। এটা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। খয়েবাড়িতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের চার কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ শুরু হয় ২০১৮ সালে। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই বন্ধ হয়ে যায় পানীয় জলের পরিষেবা। বর্তমানে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বড়জোর সাত-আটটি ট্যাপকলে জল মেলে। ওই প্রকল্পের পাইপলাইন বিভিন্ন জায়গায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অবশ্য পাইপলাইন মেরামতের কাজ চলছে বলে জানান জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের নির্বাহী বাস্তুকার সুব্রত ধর।

এদিকে, সংখ্যালঘু দপ্তরের টাকায় পাম্প লাগানো নলকূপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে ওই এলাকাতেই। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, একটি প্রকল্প চালু হতে না হতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। সেটিকে মেরামত না করে ফের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নয়া পাম্প ও নলকূপ বসানো হচ্ছে কেন। পশ্চিম খয়েবাড়ির বাসিন্দা তথা বিজেপির মণ্ডল সভাপতি নেপাল রায় বলেন, অপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আর্থিক নয়ছয় করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন, গোটা ব্লকে এ ধরনের ৭৩টি পাম্প বসানো হয়েছে। বেশিরভাগই চা বাগান এলাকায়। চা বাগানে জলের সমস্যা রয়েছে। সমস্যা মেটাতে সহায়ক হয়েছে পাম্পগুলি। তবে চা বাগান ছাড়াও বেশ কিছু এলাকায় এ ধরনের পাম্প বসানো হয়েছে।