ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : উদ্বোধনের চার বছর পরও আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন বীরপাড়ায় কিষান মান্ডি চালু হয়নি। এতে আলিপুরদুয়ারের কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, একাংশ কৃষক ও পাইকার কিষান মান্ডিতে যেতে না চাওয়ায় আজও কিষান মান্ডি চালু করা যায়নি। কোটি কোটি টাকা দিয়ে ওই কিষান মান্ডি তৈরির পরও কেন কৃষকরা সেখানে যেতে চাইছেন না, প্রশাসনই বা এজন্য কেন কোনো পদক্ষেপ করছে না- সেসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আজও কিষান মান্ডি চালু না হওয়ার জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছে বিরোধী দলগুলি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে দ্রুত বৈঠক করা হবে।

আলিপুরদুয়ার জেলা কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার শহরের আশপাশ এবং আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের কয়েক লক্ষ কৃষকের স্বার্থে ২০১৬ সালের ২৭ জুন কিষান মান্ডিটি চালু করা হয়। শহর লাগোয়া বীরপাড়ায় ওই কিষান মান্ডি গড়ে ওঠে। কিষান মান্ডি তৈরিতে ৫ কোটি ৮৮ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৯৪ টাকা খরচ হয়েছিল। আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের কৃষি দপ্তরের প্রশাসনিক অফিস, মাটি পরীক্ষার অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, ১০০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গোডাউন, ব্লকের ধান ক্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে মান্ডিতে। এছাড়াও কিষান মান্ডিতে পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্য ২২টি অত্যাধুনিক স্টল, ঝাঁ চকচকে রাস্তা, আলোর ব্যবস্থা, পরিস্রুত পানীয় জল সহ আধুনিক মানের সব ব্যবস্থাই রয়েে। ২০১৬ সালে আধুনিক মানের এই কিষান মান্ডির উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে, কিষান মান্ডিতে বিভিন্ন অফিস চালু হলেও আজও সেখানে পাইকারি বাজার চালু হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এখনও বহু কৃষক উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য শহরের বড়বাজারে নিয়ে আসেন। তবে জানা গিয়েছে, বড়বাজারে ফসল বিক্রি করতে অভ্যস্ত কৃষকরা। পাইকাররাও এখানে এসে কৃষকদের থেকে ফসল কিনে নিয়ে যান। তাই এখান থেকে অনেক কৃষক ও পাইকারই বীরপাড়ার কিষান মান্ডিতে যেতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে কিষান মান্ডিতে আজও পাইকারি কৃষক বাজার চালু করা যায়নি বলে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের থেকেও দুটি মত উঠে এসেছে। চকোয়াখেতির কৃষক সুনীল রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যখন কিষান মান্ডি উদ্বোধন করেছিলেন সে সময় আমরা ভেবেছিলাম মান্ডিতে ফসল বিক্রি করলে ফসলের ন্যায্য দাম পাব। কিন্তু উদ্বোধনের চার বছর পরও সেটি চালুই করতে পারেনি প্রশাসন। তাই কিষান মান্ডি ছেড়ে বাইরের খোলাবাজারে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আবার ভোলারডাবরির কৃষক জগবন্ধু বর্মন বলেন, আমাদের এলাকা থেকে কিষান মান্ডি অনেকটাই দূরে। সেখানে ফসল নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। আমরা বহুদিন থেকেই বড়বাজার এলাকায় পাইকারি দরে ফসল বিক্রি করছি। এখানে পাইকাররাও সহজেই আমাদের থেকে ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই কিষান মান্ডির বদলে বড়বাজারেই আমরা ফসল বিক্রি চালু রাখতে চাই।

এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিক দীপঙ্কর পণ্ডিত বলেন, কিষান মান্ডিতে পাইকারি কৃষক বাজার চালু করতে বহুবার আমরা চেষ্টা করেছি। পাইকার, কৃষক, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকও করেছি। কিন্তু কৃষকদের একটা অংশ বড়বাজার থেকে যেতে রাজি নন। তাই আজও কিষান মান্ডিতে পাইকারি কৃষক বাজার চালু করা যায়নি। তবে, দ্রুত যাতে সেখানে কৃষক বাজার চালু করা যায় সেজন্য ফের সবাইকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।