চরিত্র বদলে জলাশয় দখল আলিপুরদুয়ারে

131

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : আলিপুরদুয়ার শহরে যে সামান্য কটি জলাশয় ও ঝিল বেঁচে আছে সেগুলিও ক্রমশ দখল হয়ে যাচ্ছে। জলাশয়গুলির চরিত্র বদল করে সেসব দখল করা হচ্ছে। অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও আলিপুরদুয়ার পুরসভার চোখের সামনে এই জবরদখল চললেও তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শহরের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকার ঝিল ও জলাশয় ভরাট করে ইমারত তৈরি হচ্ছে।

এই অবস্থায় এবার জলাভূমি বাঁচাতে গ্রিন ট্রাইবিউনালে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আলিপুরদুয়ার জলাশয় বাঁচাও কমিটি। কমিটির আহ্বায়ক ল্যারি বসু বলেন, সরকারি খতিয়ান অনুযায়ী আলিপুরদুয়ার শহরে ১৫টি ঝিল এবং ১টি ডোবা আছে। কিন্তু গত কয়ে বছরে প্রায় সবগুলোর একাংশ দখল হয়ে গিয়েছে। লকডাউনের সময় বেশ কিছু ঝিল সম্পূর্ণ দখল হয়ে গিয়েছে। তাই এবার আমরা বাধ্য হয়ে জলাশয় পুনরুদ্ধারে গ্রিন ট্রাইবিউনালে মামলা করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

- Advertisement -

অভিযোগ, লকডাউনের সময় এই জবরদখল মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত পাঁচ বছরে শহরজুড়ে জবরদখলকারীদের রমরমা বাজার।  কে নেই সেই তালিকায়! ডাক্তার, উকিল, বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতারাও রয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কর্মীদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশেই রাতারাতি জলাভূমির চরিত্র বদল হয়ে যাচ্ছে। এই অবৈধ দখলের ফলে অল্প বৃষ্টিতেই শহরজুড়ে যেমন জল জমছে, তেমনি জীববৈচিত্র‌্যেরও ব্যপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০১৯ সালে আলিপুরদুয়ার শহরে জলাশয়, ঝিল, ডোবা নিয়ে চারদিকে অন্তোষ তৈরি হয়। বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসন শহরে জলাভূমি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। কিন্তু অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের বিএলআরও যখন ওই রিপোর্ট জমা করেন তখন সেখানে আলিপুরদুয়ার শহরে ঝিল, ডোবা বা জলাভূমি কোথায় কোথায় জবরদখল হয়েছে, তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। জলাভূমি শুধু বাস্তুজমি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই তখন প্রশ্ন ওঠে, জলাভূমি কীভাবে বাস্তুজমি হল? আলিপুরদুয়ার শহরের জলাভূমির এই অসংগতি মেটাতে তৎকালীন জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দীপঙ্কর পিপলাই বিএলআরও-কে ফের রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই রিপোর্ট আদৌও পরে আর জমা পড়েছে কি না, তা অবশ্য  জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন। ওই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার শহরের ঝিল ও জলাশয় দখল নিয়ে আর কোনও পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন।

কোটি কোটি টাকায় ঝিলের জমি কিনে নিচ্ছেন শহর ও বাইরে থেকে আসা বড় ব্যবসায়ী থেকে চিকিৎসকরা। গোটা কাজটিতেই শাসকদলের এক শ্রেণির নেতার প্রচ্ছন্ন মদত আছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। জলাভমি বাঁচাও কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আলিপুরদুয়ার শহরে কোথায় ঝিল, ডোবা, জলাভূমি আছে তার একটি সরকারি ম্যাপ তাদের কাছে আছে। ওই ম্যাপেই স্পষ্টভাবে সবকিছু চিহ্নিত করা রয়েছে।

বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে শহরের ঝিল, জলাশয় ভরাট হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পুরসভাও এবিষয়ে নীরব দর্শক। তবে আমি বিধায়ক হবার আগে থেকেই জলাভূমি বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এখনও জলাভূমি পুনরুদ্ধারে শহরে বাসিন্দাদের সঙ্গে আছি। অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরের ঝিল, জলাশয় দখলে আমাদের দলের কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানি না। তবে কেউ যদি প্রমাণ দেয় তবে তা জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।