রিজার্ভার অকেজো, জলের সংকটে বনবস্তির বাসিন্দারা

283

লাটাগুড়ি : বছর কযে ধরে বন দপ্তরের তরফে তৈরি করে দেওয়া জল সরবরাহের রিজার্ভার অকেজো পড়ে রয়েছে। বনবস্তিতে থাকা বেশিরভাগ কুয়ো শুকিয়ে কাঠ হযে গিয়েছে। যে কয়েকটি কুয়োতে সামান্য জল রয়েছে তাও পানের অযোগ্য। ফলে গরুমারা জঙ্গল লাগোযা দুই বনবস্তির কয়েকশো বাসিন্দা তীব্র পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন। প্রশাসনের দরজায় দরজায় সমস্যার কথা জানিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয বনবস্তির বাসিন্দাদের। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বাতাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেইলি বেগম।

প্রতি বছর গরমের শুরুতে পানীয় জলের তীব্র সংকট শুরু হয়ে যায় বাতাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া বিচাভাঙ্গা, সরস্বতী বনবস্তি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামে পানীয জল সরবরাহের জন্য বন দপ্তর থেকে বিদ্যুৎচালিত দুটি পাম্প বসিয়ে রিজার্ভার তৈরি করে জল সরবরাহের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। বন দপ্তর সূত্রে খবর, এই পাম্প ও  রিজার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্যদের হাতে। এদিকে, পাম্প মেশিন চালাবার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে সংযোগ কেটে দেওয়ায় অকেজো হযে পড়ে রয়েছে রিজার্ভার। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের পানীয় জলের একমাত্র ভরসা কুয়ো। তাও বেশিরভাগ শুকিয়ে যাচ্ছে গরম পড়ার আগেই। হাতেগোনা যে কয়েকটি কুয়োয় জল থাকে তার জলের সঙ্গে বালি ও নোংরা ওঠায় ওই জল পানের অযোগ্য হযে পড়েছে। বনবস্তিগুলিতে তীব্র জলকষ্ট শুরু হয়েছে। স্থানীয় বনবস্তিবাসী ভাদে ওরাওঁ বলেন, ‘বনবস্তিগুলিতে পানীয় জলের বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেই। তার ফলে বাধ্য হযে আমাদের ওই নোংরা জল পান করতে হচ্ছে।’ মুনসি ওরাওঁ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এলাকার বাসিন্দারা প্রায়ই পেটের অসুখে ভুগছেন ওই জল খেযে স্থানীয গ্রাম পঞ্চায়েছের প্রাক্তন সদস্য সোমরা ওরাওঁ জানান, ‘প্রতিবছর এই একই ঘটনা চলে আসছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের কাছে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি।’

- Advertisement -

স্থানীয় যৌথ বন পরিচালন কমিটির সম্পাদক সুবল পাইক বলেন, ‘যৌথ বন পরিচালন কমিটির টাকা বন দপ্তর থেকে না পাওয়ায় বিদ্যুৎ বিল মেটানো সম্ভব হয়নি। তাই রিজার্ভার অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। টাকা পেলেই বিল মিটিযে দেওয়া হবে। বাতাবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেইলি বেগম জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতজুড়ে জলের সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিক কুয়ো করে দেওয়া হয়েছে। কী সমস্যা তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা  নেব।

ছবি- অকেজো পানীয় জলের রিজার্ভার।

তথ্য ও ছবি- শুভদীপ শর্মা