জলসংকটে জেরবার পাথরঘাটার বাসিন্দারা

280

শিলিগুড়ি : পানীয় জলের সমস্যায় জর্জরিত মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০-১২টি গ্রাম। শীত ফুরোতে না ফুরোতেই গ্রামগুলির জলের স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ায় নলকূপ এবং কুয়োতে সেভাবে জল থাকছে না। অথচ, এই গ্রামগুলির পাশেই দুটি নদী রয়েছে। অভিযোগ, নদী থেকে অবাধে বালি-পাথর খননে জলস্তর নেমে গিয়েছে। সামনে খরা মরশুম আসায় সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে পানীয জলের দাবি রয়েছে। কয়েক বছর আগে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল পেঁছে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু এলাকায় কাজও হয়। কিন্তু জল আর আসেনি। ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের শিলিগুড়ির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিযার চিন্ময রাহা বলেন, ‘ওই এলাকার পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর জন্য খোপলাসিতে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেনাছাউনি সংলগ্ন ওই জায়গায় জমি নিয়ে কিছু সমস্যার জন্য প্রকল্পের কাজ করা যায়নি। বিকল্প জায়গা খুঁজে নতুন করে প্রকল্প তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের খোপলাসি, নিমাইজোত, বাঁশবাড়ি, পাঁচকেলগুড়ি, খাপরাইল বাজার, ছোট ধুকুরিযা, খাগারিযাজোত, গোয়ালজোত সহ আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জলের সমস্যা চলছে। এই গ্রামগুলির কাছাকাছি রয়েছে বালাসন এবং রক্তিখোলা নদী। সেই অর্থে গ্রামগুলিতে জলের সমস্যা হওযার কথা নয়। কিন্তু সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গোটা মহকুমাতেই যেভাবে নদী খনন করে বালি-পাথর তুলে নেওয়া হচ্ছে, তার জেরেই নদীর জলস্তর অনেকটা নীচে নেমে গিয়েছে। পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকাতেও বালাসন এবং রক্তিখোলা নদীতে অবাধে এবং অপরিকল্পিতভাবে খননের জেরে জলস্তর অনেক নীচে নেমে গিয়েছে। অনেক জাযগাতেই নদীর গতিপথ বদলে দেওয়া হয়েছে। যার জেরে সমস্যা বাড়ছে বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। খোপলাসির বাসিন্দা নন্দু শেখ বলেন, ‘আগে এখানকার কুয়ো এবং নলকূপগুলিতে সারাবছরই জল থাকত। কিন্তু নদীতে অবাধে খনন শুরু হওয়ায় আমাদের কুয়ো, নলকূপে আর জল থাকছে না। ৭০-৮০ ফুট পাইপ পুঁতেও নলকূপে বছরের বেশিরভাগ সময়ই জল থাকে না। কুয়ো শুকিয়ো যাচ্ছে। পানীয় জলের তো সমস্যা হচ্ছেই, পাশাপাশি সংসারের অন্যান্য কাজের জলও পাওয়া যাচ্ছে না।’ স্থানীয়রা বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর আগে এখানে একটি পানীয় জলের প্রকল্প চালু হচ্ছে বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। এলাকায জলের পাইপলাইনও বসানো হয। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো আমাদের কষ্টের দিন ফুরোচ্ছে। কিন্তু আজও সেই পাইপ দিয়ে জল আসেনি। পাঁচকেলগুড়ির বাসিন্দা করন মার্ডি বলেন, এখনই কুয়ো, নলকূপে জলস্তর নেমে গিয়েছে। সামনেই খরার মরশুম আসছে। প্রতি বছর এই সময় আমাদের চরম ভোগান্তি হয়। আগামী মাসগুলির কথা ভেবে এখন থেকেই ভয় হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১৬-১৭ সালে খোপলাসিতে ৫৫ লক্ষ টাকা খরচ করে জলপ্রকল্পের পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার জন্য সেই কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। মাটিগাড়া ব্লক তণমূল কংগ্রেস সভাপতি (১) খগেশ্বর রায বলেন, ‘খোপলাসিতে কয়েক বছর আগে পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ হয়েছিল। কিন্তু সেনাছাউনি সংলগ্ন এলাকায জমি নিয়ে সমস্যার জেরে কাজটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। আবার রাজ্য সরকার নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। পাঁচকেলগুড়িতে সেই প্রকল্প হবে এবং এলাকার ১০-১২টি গ্রাম এই প্রকল্প থেকে জল পাবে।’

- Advertisement -

ছবি- অসমাপ্ত জল প্রকল্প

তথ্য ও ছবি- রণজিৎ ঘোষ