জঙ্গলে ভরা পাম্পহাউস সাপের বাসা, জলসংকটে বাঁশগাঁও কিশমতের বাসিন্দারা

122

ফাঁসিদেওয়া : প্রায় ৮ মাসের বেশি সময় ধরে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ফাঁসিদেওয়ার বাঁশগাঁও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ৩০ হাজার বাসিন্দা পানীয় জল সংকটে ভুগছেন। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে এলাকাবাসী পানীয় জলের দাবিতে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তখন ফাঁসিদেওয়ার বিডিও ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপর ৫ মাসের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু এখনও সমস্যা মেটেনি। ফাঁসিদেওয়ার জ্যোতিনগরের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) জলের পাম্প বিকল হয়ে রয়েছে। পাম্পহাউস জঙ্গলে ছেয়ে গিয়েছে। সেখানেই বাসা বেঁধেছে বিষধর সাপ। এলাকাবাসী পরিস্রুত পানীয় জল না পেয়ে আয়রনযুক্ত জল পান করছেন। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যার বিষয়ে জানলেও সমাধান নিয়ে হুঁশ নেই প্রশাসনের।

১৯৯৬ সালে ফাঁসিদেওয়ার বাঁশগাঁও কিশমত গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতিনগরে পিএইচইর ২টি পাম্প চালু হয়েছিল। প্রায় বছর চারেক আগে পিএইচই গ্রাম পঞ্চায়েতকে পাম্পের দাযিত্ব হস্তান্তর করে। অভিযোগ, সঠিকভাবে সংস্কার না হওয়ায় এবং পাম্পের মেকানিক না থাকায় পানীয় জলের সমস্যা বাড়তে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে পিএইচইর থেকে জলের পাম্পের দাযিত্ব নেওয়া এবং অর্থের অভাবে পিএইচইকে ফের প্রকল্প হস্তান্তরের পর থেকে সমস্যা বেড়েছে। পাম্পকর্মীরা জানিয়েছেন, পাম্পের পরিষেবা দেওয়ার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে পরিকাঠামো ছিল না। এখন পাম্পের ফিল্টার ও মোটর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে জলের পরিষেবা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

- Advertisement -

গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা ১৮টি সংসদের গোয়ালটুলি, জ্যোতিনগর, ভক্তিনগর, দেমনাখালি, চুনিয়াটুলি, ভিতরহাট, বিডিও অফিস এলাকা, ঠাকুরপাড়া, ধামনাগছ, কোকড়াজোত, দাসপাড়া, বন্দরগছ সহ একাধিক এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা জলকষ্টে ভুগছেন। কুয়ো কিংবা ডিপ টিউবওয়েলের জলে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকলেও বাধ্য হয়ে সবাই সেই জল পান করছেন। রাজেশ ডোম, অনিল ঘোষ, জানকী রায়, কাকলি হালদার, সুজাতা দাস, সুনীতি নস্করদের মতো বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারগুলি পানীয় জল কিনে পান করছে। কিন্তু দুঃস্থ পরিবারগুলি অপরিশোধিত জল পান করছে। অবিলম্বে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে পাম্প সারাইয়ের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে টেন্ডার করা হয়েছিল। কিন্ত অন্য এলাকার বাসিন্দা টেন্ডার পেয়েছিলেন বলে এলাকাবাসী কাজ করতে দেননি বলে তিনি শুনেছেন। এরপর ওই কাজ বন্ধ করে দিতে বলা হয়। তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাহানারা বেগম পাম্প সারাই করার বিষয়ে কোনও টেন্ডার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পাম্পটি এখন তাঁদের অধীনে নেই। এ বিষয়ে পিএইচই কর্তৃপক্ষকে ফোন করা হলে কেউ ফোন না তোলায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।