লকডাউনের মধ্যেই জলসংকট, পানীয় জল নিয়ে নাজেহাল বাসিন্দারা

172

হরিশ্চন্দ্রপুর: লকডাউনে অবরুদ্ধ জনজীবন, তার ওপর আবার জলসংকট। এমন পরিস্থিতিতে নাজেহাল হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকার বাসিন্দারা। তারা জানান, এলাকার একমাত্র আর্সেনিকমুক্ত জল সরবরাহ কেন্দ্রটিও ছ’মাস ধরে বিকল। এমনকি পঞ্চায়েতের লাগানো নলকূপগুলিও বর্তমানে বিকল হয়ে পড়ে আছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে বাম আমলে তৈরি এলাকার একমাত্র পিএইচইর জল সরবরাহ কেন্দ্রটিও। তাই বাধ্য হযে জল কিনে খেতে হচ্ছে ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভালুকা পূর্ব ও পশ্চিম বাজার, মহলদারপাড়া, নযাটোলা, কালীতলা ও পালপাড়ার প্রায় হাজার দশেক মানুষকে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, লকডাউনের মধ্যেও সকাল হলেই জলের প্ল্যান্টের সামনে বা দোকানে গিযে লম্বা লাইন দিতে হচ্ছে। টাকা দিযে জল কিনে তবে বাড়ি ফিরতে পারছেন এলাকার অধিকাংশ খেটেখাওয়া মানুষগুলি। এই পরিস্থিতির জন্য এলাকাবাসী অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রশাসনের দিকে। তাঁরা জানান, ‘প্রশাসনিক উদাসীনতায এলাকার আর্সেনিকমুক্ত পানীয জল সরবরাহ কেন্দ্র ও পিএইচই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। যার জেরে আমরা এলাকায় পরিস্রুত পানীয জল পাচ্ছি না।’

স্থানীয বাসিন্দা চারু মালাকারের অভিযোগ, ‘গত ছ’মাস ধরে বিকল হযে পড়ে রয়েছে পঞ্চায়েত লাগোয়া আর্সেনিকমুক্ত জল সরবরাহ কেন্দ্রটি। দু-তিন দশক আগে ভালুকার পিএইচইর অধীনে বিভিন্ন এলাকায ১৫০ থেকে ১৭৫টি ট্যাপকলের পয়েন্ট ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক উদাসীনতায বর্তমানে সেই সংখ্যাটা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৭-এ। অধিকাংশ ট্যাপকলগুলিই নিশ্চিহ্ন হযে গিয়েছে। অধিকাংশ এলাকাতেই পিএইচইর পাইপলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে জল পরিষেবাও। তাছাড়া যে কযেটি এলাকায় পিএইচইর জল মিলছে তা রীতিমতো পানের অযোগ্য। অন্য এক বাসিন্দা গৌতম দাস অভিযোগ করে বলেন, গরিব-মজদুর খেটেখাওয়া মানুষগুলির এমনিতেই এই লকডাউনের জেরে রোজগার বন্ধ। তার ওপর পরিবারের সদস্যদের জন্য খাদ্যসামগ্রী জোগাড় করতে গিযে নাজেহাল হচ্ছেন তাঁরা। সেসবের সঙ্গে এই জল কিনে খাওয়া যে কতটা কষ্টদায়ক, তা আমরাই বুঝতে পারছি। আমরা চাই পঞ্চায়েত লাগোয়া আর্সেনিক জল সরবরাহ কেন্দ্রটি দ্রুত সংস্কার হোক। তাহলেই অনেক এলাকায় জল সমস্যার সমাধান হবে। যদিও এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের বিডিও প্রীতম সাহা বলেন, ‘ভালুকা এলাকায় জলসংকট মেটাতে ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’

- Advertisement -