বারো বছর ধরে জল বন্ধ রাজগঞ্জের  ৫ গ্রামে

104

রণজিৎ বিশ্বাস, রাজগঞ্জ : শিলিগুড়ি মাত্রই কয়েক কিলোমিটার দূরে। সেখানে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জোয়ার। অথচ রাজগঞ্জের সাহুডাঙ্গি এলাকার পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা শুধুমাত্র পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে খুবই ভোগান ভুগছেন। এলাকায় একটি জলপ্রকল্প থাকলেও এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অগত্যা পাতকুয়োর জলই ভরসা বাসিন্দাদের। কিন্তু একে তো পাতকুয়োর জল অপরিস্রুত। তার ওপর গরম পড়ায় কুযোর জলস্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছে। এর জেরে বাসিন্দাদের ভোগান্তি ক্রমেই বাড়ছে। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ সবকিছু জেনেও নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। সমস্যার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ অবশ্য সুরাহার আশ্বাস দিয়েছে।

বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল কংগ্রেসের তুষারকান্তি দত্ত বলেন, সাহুডাঙ্গির সজলধারা প্রকল্পটি বাম আমলে করা হয়েছিল। তা বর্তমানে বন্ধ হয়ে রয়েছে। তবে সাহুডাঙ্গি ও ফাড়াবাড়ি এলাকায় যাতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর (পিএইচই)-র জলপ্রকল্প তৈরি করা যায় সেজন্য বিধায়কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই যাতে প্রকল্পটি তৈরি করা যায় সেজন্য চেষ্টা চলছে।

- Advertisement -

বাম আমলে সজলধারা প্রকল্পে রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহুডাঙ্গিতে একটি পরিস্রুত পানীয় জলপ্রকল্প তৈরি করা হয়। একসময় এই জলপ্রকল্প থেকে সাহুডাঙ্গি, আশ্রমপাড়া, ছত্তরপাড়া, তেলানিপাড়া ও নাউয়াপাড়ায় নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ হত। পাঁচটি গ্রাম মিলে কয়েক হাজার বাসিন্দা উপকৃত হতেন। কিন্তু গত প্রায় ১২ বছর ধরে জলপ্রকল্পটি বন্ধ হয়ে রয়েছে। এনিয়ে গ্রামগুলির বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েছেন। অনেকে পাতকুয়োর জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু পাতকুয়োর অপরিস্রুত জল খেয়ে অনেকে পেটের সমস্যায় ভুগছেন। সমস্যা মেটাতে ব্যবস্থা নিতে রাজেশ রায়, পরিমল রায়ের মতো বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন।

রাজেশবাবু বলেন, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় থাকাকালীন চালু হওয়া জলপ্রকল্পটির সুবাদে একটা সময় পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা খুবই উপকৃত হতেন। কিন্তু ঠিকমতো দেখভালের অভাবে জলপ্রকল্পটি একটা সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যে পালাবদল হলে সমস্যা মিটবে বলে আমরা মনে করেছিলাম।  কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরও সমস্যা মেটেনি। পরিমল বলছেন, বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে পাতকুয়োর জল খান। কিন্তু বর্তমানে জলস্তর অনেকটাই নেমে যাওয়ায় এই জল খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে বাসিন্দারা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। রাজেশ-পরিমলের অভিযোগ, সমস্যার বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সবই জানে। কিন্তু সমস্যা মেটাতে তাদের তরফে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।