দুটি নলকূপ থেকে অবিরাম জল পড়ছে ১২ বছর ধরে

1681

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: জল পেতে নলকূপের হাতলে চাপ দিতে হয় না। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের মধ্য রাঙ্গালিবাজনার ডোবোধুরা ও উত্তর রাঙ্গালিবাজনার শুখাটাড়ির দুটি নলকূপ থেকে অবিরাম জল পড়ে যাচ্ছে ১২ বছর ধরে। ওই নলকূপের জলে এলাকার দু’টি পুকুরে শুখা মরশুমেও জল টইটম্বুর থাকে। এলাকার বাসিন্দাদেরও আর জল সংগ্রহ করতে পরিশ্রম করতে হয়না। তবে ওই জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করার জন্য আজ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে নষ্ট হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জল। ভূগোলের শিক্ষক মনতোষ রায় বলেন, ‘এটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এটিকে আর্টেজীয় কূপ বলা হয়।’

মধ্য রাঙ্গালিবাজনার ডোবোধুরা ও উত্তর রাঙ্গালিবাজনার শুখাটাড়িতে অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০০৮ সালে দুটি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু মাটির গভীরে পাইপ প্রবেশ করানো মাত্রই বেরিয়ে আসতে থাকে জলের ফোয়ারা। ডোবোধুরায় সোমা ওরাওঁয়ের বাড়ির সামনে বসানো পাইপের মুখে নলকূপ লাগিয়ে দেওয়া হলেও শুখাটাড়িতে শুখা ওরাওঁয়ের বাড়ির সামনে বসানো পাইপের মুখে নলকূপ বসানো হয়নি। কারণ যেভাবে জলের ফোয়ারা সারাবছর ধরে বেরোতে থাকে তাতে আর নলকূপের হাতলে চাপ দিতে হয়না। এলাকার বাসিন্দা করণদয়াল ওরাওঁ বলেন, ‘এতে আমাদের সুবিধাই হয়েছে। জল পেতে কোনও পরিশ্রম করতে হয়না। যদি পরিকল্পনা করে ওই জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হবেন।’

- Advertisement -

ভূগোলের শিক্ষক মনতোষবাবু বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের প্রকৃতি ও অবস্থানগত কারণে ভূগর্ভস্থ জল অনেক সময় প্রবল চাপে থাকে। কোনওভাবে বাইরে বেরোনোর পথ পেলে জল প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে।’ মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য সাজিদ আলম বলেন, ‘ওই জলকে পানীয় জল হিসেবে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। সেচের কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও সেচ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’