বেলবাড়িতে রেলের আন্ডারপাসে নৌকা চলছে

বিপ্লব হালদার, গঙ্গারামপুর : টানা বৃষ্টিতে আন্ডারপাসে জমেছে গলাজল। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। জল ঢুকতে শুরু করেছে এলাকার একাধিক বাড়িতে। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। অবিলম্বে জলনিকাশির দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা।

গঙ্গারামপুর শহরের কালীতলা থেকে তপন ব্লকের আমতলিঘাট যাওয়ার রাস্তার মধ্যে পড়ে বেলবাড়ি লক্ষ্মীতলা। তিন বছর আগে সেখানে রেলের আন্ডারপাস তৈরি হয়। অভিযোগ, নিকাশির অব্যবস্থায় তৈরি হওয়ার পর থেকেই সামান্য বৃষ্টিতে জল জমে আন্ডারপাসে। এতদিন সেখানে জল থাকলেও এলাকার মানুষজন কোনওরকমে সেখান দিয়ে যাতায়াত করছিলেন। কিন্তু গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আন্ডারপাসে গলা সমান জল জমে গিয়েছে। ফলে আন্ডারপাস দিয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন চলাচল। এতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বেলবাড়ি লক্ষ্মীতলা, গুড়িয়াপাড়া, মর্জিতপাড়া, সয়রাপুর সহ তপন ব্লকের বাংলাপাড়া, সুতইল, মান্দাপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে। কোনও কারণে গঙ্গারামপুরে যেতে হলে এলাকার মানুষজনকে গামছা পরে সাঁতরে আন্ডারপাসের অন্যদিকে এসে জামাকাপড় পরে গঙ্গারামপুরে যেতে হয় বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীকে ওই আন্ডারপাস দিয়ে নৌকা করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আন্ডারপাস দিয়ে জল না বেরোনোয় আশপাশের এলাকার বাড়িঘরেও জল জমেছে।

- Advertisement -

বেলবাড়ি লক্ষ্মীতলা এলাকার বাসিন্দা বিমল রায় বলেন, আন্ডারপাস দিয়ে কোনওভাবেই জল বেরোয় না। ফলে প্রায়শই আন্ডারপাসে কোথাও কোমর সমান, আবার কোথাও গলা সমান জল জমছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একদিকের মানুষকে সাঁতরে অন্যদিকে গিয়ে জামাকাপড় পরে গন্তব্যস্থলে যেতে হচ্ছে। আমরা চাই, তাড়াতাড়ি জলনিকাশির ব্যবস্থা করা হোক। গৃহবধূ চম্পা রায় বলেন, একদিন আগে আন্ডারপাসের ওপারের বাংলাপাড়া এলাকার এক প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম সমস্যার পড়তে হয়। জলের জন্য গাড়ি পার হতে না পারায় তাঁকে চ্যাংদোলা করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। এখন বেশি জল জমে থাকায় মহিলাদের যাতায়াত একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বারবার আমরা জলনিকাশির দাবি করেছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা রাধারমণ রায় বলেন, রেলের আন্ডারপাস চালু হওয়ার পর থেকেই আমাদের এলাকায় জল জমছে। খরার দিন ছাড়া সেই জল শুকাতে চায় না। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে হাঁটু থেকে গলা পর্যন্ত জল হয়েছে। সেই কারণে বাংলাপাড়া, গণাহার সুড়সুড়ি, সুতইল, মান্দাপাড়া, গুড়িয়াপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে বহুদূর ঘুরে গঙ্গারামপুর যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় যেমন লাগছে, পাশাপাশি বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আমরা চাই, তাড়াতাড়ি আন্ডারপাসে নিকাশির ব্যবস্থা হোক। এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ রায় বলেন, আগে আমাদের এলাকা থেকে জল অনায়াসে বেরিয়ে যেত। আন্ডারপাস হওয়ার জন্য এখন বৃষ্টির জল বেরোতে পারছে না। আন্ডারপাসে যেমন গলা সমান জল জমছে, তেমনই বাড়িঘরেও জল জমে থাকছে। আমাদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

গৃহবধূ অঞ্জনা সরকার বলেন, দিনের পর দিন জল জমে থাকায় আন্ডারপাস দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে যেতে অসুবিধায় পড়ছে। তারপর বৃষ্টির জমা জল দূষিত হওয়ায় পায়ের অসুখ হচ্ছে। আন্ডারপাস মশার আঁতুড়ে পরিণত হচ্ছে। আমাদের দাবি, আন্ডারপাস থেকে জমা জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। রাকিব সরকার বলেন, গুড়িয়াপাড়া, বাংলাপাড়া এলাকায় যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের বেশিরভাগই চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বেলবাড়ি লক্ষ্মীতলা আন্ডারপাস এলাকায় এত জল জমায় সাইকেল কিংবা টোটোতে করে উৎপাদিত ফসল গঙ্গারামপুরে সময়মতো নিয়ে যেতে পারছি না। আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ঝর্ণা কর্মকার দেববর্মন বলেন, আন্ডারপাসটি রেলের। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য আমরা পাম্প লাগিয়ে দুদিন পরপর জল বের করে দিই। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সেখানে জল জমেছে। বৃষ্টি কমলে পাম্প লাগিয়ে জল বের করা হবে।