ফালাকাটা : গত মার্চ মাসে মহাসড়কের কাজের জন্য ফালাকাটার কাছাকাছি কয়েক জায়গায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জল সরবরাহে মূল পাইপ ভেঙে যাওয়ায় পানীয় জল পাচ্ছেন না চারটি পঞ্চায়েত এলাকার ছয় হাজার মানুষ। টানা পাঁচ মাস জল বন্ধ থাকায় জলের অভাবে রাইচেঙ্গা গ্রামের একটি ও কাদম্বিনি চা বাগানের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আয়রনযুক্ত নলকূপের জলই খাচ্ছেন। আবার রাইচেঙ্গার কিছু বাসিন্দা ৩-৪ কিমি দূরে ফালাকাটা শহর থেকে পিএইচই-র জল সংগ্রহ করে আনছেন। এই গ্রামগুলিতে থাকা একটি হাইস্কুল ও চারটি প্রাইমারি স্কুলের পড়ুয়াদেরও বাধ্য হয়ে নলকূপের দূষিত জল খেতে হচ্ছে। তবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের জল সরবরাহ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার স্বপন ঘোষ বলেন, ‘রাস্তার কাজের জন্য পুরো পাইপলাইনটি সরানো হবে। এজন্য এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি প্ল্যান এস্টিমেটও তৈরি হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু হবে।’

গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ফালাকাটা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩টি বুথ এলাকায় নলবাহিত জল পরিসেবা চালু হয়। এজন্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দেওয়া প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের আসাম মোড়ে বিশাল রিজার্ভার তৈরি হয়। এই প্রকল্পটি পিএইচই-কে হস্তান্তর করা হয়নি। এখনও জল পরিসেবা ও পাইপলাইন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর।

গত মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে ফালাকাটা-সোনাপুর রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের কাজ শুরু হওয়ায় রাইচেঙ্গার সাইনবোর্ড ও বাবুরহাটে বেশ কয়েক জায়গায় জলের পাইপ ভেঙে যায়। তবে বাবুরহাটে বাসিন্দারা নিজেরাই ভেঙে যাওয়া পাইপ মেরামত করায় বাবুরহাট সহ কালীপুর বাঁধের পাড়, আসাম মোড়, উত্তর কালীপুর,দক্ষিন কালীপুর ইত্যাদি গ্রামে জল পরিসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু রাইচেঙ্গা ও কাদম্বিনী চা বাগানে কিছু এলাকায় পাঁচ মাস থেকে পুরোপুরি জল বন্ধ থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

রাইচেঙ্গার বাসিন্দা অনুপ সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন ফালাকাটা শহরের কল থেকে জল আনতে হয়।’ তাঁর প্রশ্ন, যদি বন্ধই থাকে তাহলে এই এলাকায় জল পরিসেবা চালুর কী প্রয়োজন ছিল? আরেক বাসিন্দা অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘ছয় হাজার মানুষ জল পাচ্ছে না। অনেকেই নলকূপের আয়রনযুক্ত জল খাওয়ায় পেটের রোগও ছড়াচ্ছে।’ রাইচেঙ্গার ১৩/২৩২-৩৩ বুথে স্কুল পাড়া, বর্মনপাড়া, মুসলিম পাড়ায় কল থাকলেও জল পৌঁছাচ্ছে না। এখানেই রয়েছে রাইচেঙ্গা বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল। আঠারোশো পড়ুয়া রয়েছে এই স্কুলে। স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি দীপক সরকার বলেন, ‘স্কুলে পিএইচই-র জলের সংযোগ নেই। এই দাবি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পড়ুয়ারা বাধ্য হয়ে দূষিত জল খাচ্ছে।’ কাদম্বিনী চা বাগানের পীযুষ লাকড়া বলেন, ‘নলবাহিত জল পেয়ে বাগানের শ্রমিকরা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এতদিন জল বন্ধ থাকায় এখন সবাই আবার নলকূপের জলই খাচ্ছে।’ অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার স্বপন ঘোষ বলেন,’পাইপ লাইন সরানোর কাজ শুরু হলে এখন যেসব এলাকায় জল চালু রয়েছে সেখানেও কিছুদিন পুরো পরিসেবা বন্ধ থাকতে পারে। মহাসড়কের জন্য এলাকার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে দ্রুত গোটা পরিসেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’

ছবি- রাইচেঙ্গায় কলে জল পৌঁছাচ্ছে না।

তথ্য ও ছবি- সুভাষ বর্মন