মালদা : আমজনতা থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতত্ব মালদা শহরের জঞ্জাল সাফাই নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে সরব হয়েছিলেন। এবার শাসকদলের কাউন্সিলার ও আমজনতা, বিরোধীদের সুরে সুর মিলিয়ে শহরের আবর্জনা পরিষ্কার নিয়ে মুখ খুললেন। অভিযোগ, মালদা শহরের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, খোদ পুরপ্রধানের ওয়ার্ডই নর্দমার জলে ভাসছে বেশ কিছুদিন ধরে। এই নিয়ে এলাকায তৈরি হয়েছে ক্ষোভ।

ইংরেজবাজার শহরের ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড দুটির কাউন্সিলার স্বয়ং পুরপ্রধান নীহাররঞ্জন ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী গায়েত্রী ঘোষ। কিন্তু গত কদিন ধরে এই এলাকার দাদা মোড় ডুবে গেছে নর্দমার জলে। দাদা মোড় এলাকার একটি দিকে রয়েছে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং অপরদিকে রয়েছে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড। যে জল পার হয়ে স্কুল, কলেজ বা অফিস যাচ্ছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, প্রসেনজিত্ দাস, বিপ্লব মজুমদাররা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকার নর্দমা দীর্ঘদিন  ধরে পরিষ্কার হয় না। শুনেছি, সম্প্রতি শহরের কোনো একটি এলাকায় নিকাশি নালা বন্ধ করে নর্দমা সংস্কারের কাজ হচ্ছে। আর তাতেই দাদা মোড় এলাকা ডুবে গেছে নর্দমার জলে। দিন সাতেক ধরে এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এলাকার মানুষের দাবি, নর্দমা মেরামত করার আগে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল পুর প্রশাসনের। অথচ তা না করায় এলাকার মানুষকে নর্দমার জলে ভাসতে হচ্ছে। স্থানীয মানুষের আরও অভিযোগ, পুজোর আগে এই এলাকার শুধু নর্দমা পরিষ্কার নয়, রাস্তাঘাটও মেরামত করা হযনি। এলাকার ভাঙা রাস্তা দিয়ে পুজোর মধ্যে মানুষকে যাতায়াত করতে হয়েছে। শহরের জঞ্জাল ও নর্দমা পরিষ্কার নিয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার উপপুরপ্রধান দুলাল ওরফে বাবলা সরকার বলেন, এটা ঠিক যে শহর পরিষ্কার হচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ায় নোংরা জল রাস্তার ওপরে এসে পড়েছে। মানুষের যাতায়াতের অসুবিধা হচ্ছে, মেনে নিচ্ছি। তবে আমরা নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। যতদিন না পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিকাশি ব্যবস্থা সংস্কার করা হবে, ততদিন এই অসুবিধা হবে। এছাড়াও তিনি জানান, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের জন্য একটি কালভার্ট তৈরি হয়েছে। যে কালভার্টটি অত্যন্ত উঁচু। তাই শহরের জল বের হতে পারছে না। এটাও একটা বড়ো কারণ।

তৃণমূল কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি বলেন, আমরা জানি পুর পরিসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার হচ্ছে না। পরিষ্কার হচ্ছে না নর্দমা। সেই জন্যই আমি আমার নিজের ওয়ার্ডের সাফাই কাজে নিজেই হাত দিয়েছি। স্থায়ী ভাগাড় সমস্যার সমাধান আজও হল না। সেই জন্যই আমরা পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসেছি। এই প্রক্রিয়া শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা সভানেত্রী। আশা করছি আর কয়েকদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে। পুর পরিসেবা পাবেন মানুষ।