মোস্তাক মোরশেদ হোসেন,  বীরপাড়া:  পানীয় জল সংগ্রহ করতে গিয়ে দাদাগিরি সহ্য করতে হচ্ছে আলিপুরদুয়ার জেলার বন্ধ বান্দাপানি চা বাগানের বাসিন্দাদের। এলাকায় জলের সংকট তীব্র। নলকূপের সঙ্গে কয়েকটি পাম্প বসিয়ে জল সংকট কমানোর চেষ্টা হচ্ছে। পাম্পের বিদ্যুতের বিল দিতে হয় বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদেরই। তবে, গাঁটের কড়ি খরচ করে জল সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। বাগানের বিভিন্ন পাম্প থেকে জল সংগ্রহ করতে সকাল থেকে অনেকে লাইন দিলেও ক্ষমতাশালীরা পরে এসেও অন্যদের হটিয়ে আগে জল নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। বান্দাপানি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মণিকুমার খালকো বলেন,  সবাই আগে জল নিতে চান। এজন্য সমস্যা হচ্ছে। জঙ্গল লাইনে শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হলেও পরে তা মিটে য়ায়।

বান্দাপানি চা বাগানে পানীয় জলের সমস্যার কথা আপনার বাগানে প্রশাসন  শীর্ষক কর্মসূচি চলাকালীন জেলা প্রশাসনের নজরে আনেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাতে সমস্যা মেটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বান্দাপানি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান রমেশ মিনজ বলেন, কয়েকটি  ছোটো পাম্প বসানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেই পাম্প চালানো হয়। পানীয় জল সংগ্রহে হুড়োহুড়ি করতে হয় স্থানীয়দের। অবশ্য পাম্পের সামান্য জলে বান্দাপানির বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটে না। পানীয় জল সংগ্রহে অনেকেই যান ভুটানের ঝোরায়। কয়েকদিন আগে বান্দাপানি চা বাগান পরিদর্শনে গিয়ে ওই চা বাগানে পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বারলা। তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে ঝোরার ডলোমাইট মিশ্রিত জল পান করছেন বান্দাপানির বাসিন্দারা। মাদারিহাট-বীরপাড়া পঞ্চায়ে সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রশিদুল আলম বলেন,  বান্দাপানি চা বাগানে বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের তরফে কয়েকটি গভীর নলকূপ বসিয়ে সঙ্গে পাম্প লাগানো হয়েছে। কারণ, ভূপ্রাকৃতিক কারণে ওই এলাকায় সাধারণ নলকূপের মাধ্যমে জল সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তবে, বিদ্যুতের বিল মেটাতে হয় উপভোক্তাদেরই। বান্দাপানি চা বাগানে পিএইচই-র পানীয় জলের প্রকল্প তৈরির জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।