শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি, ১৪ মার্চঃ  পানীয় জলই এবার ভোটের ইশ্যু মাল ব্লকের লাটাগুড়ি, ক্রান্তি, চাঁপাডাঙ্গা, চ্যাংমারি ও রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে। ব্লকের এই পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় পৌনে দু’লক্ষ গ্রামবাসীর পানীয় জলের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। আর এই পানীয় জলের সংকটকেই ভোটে হাতিয়ার করেছে বিরোধীরা। সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

মাল ব্লকের এই পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে লাটাগুড়ি, ক্রান্তি এবং রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের সামান্য কিছু অংশে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের  পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি দুই গ্রাম পঞ্চাযে চাঁপাডাঙ্গা এবং চ্যাংমারির কোথাও পরিস্রুত পানীয় জলের নূ্ন্যতম ব্যবস্থা নেই। ওই দুই এলাকার প্রায় ৫০ হাজার গ্রামবাসীর পানীয় জলের ভরসা কুয়ো বা টিউবওয়েল। শীতের শেষদিকেই এলাকার বেশিরভাগ কুয়ো ও টিউবওয়েলের জল শুকিযে যায়। ফলে পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেয় পুরো এলাকায়। সমস্যার কথা স্বীকার করে চাঁপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নন্দিতা রায়মল্লিক বলেন, সমস্যা সমাধানে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এলাকায় একাধিক কুয়ো ও টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। চ্যাংমারির গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনুকূল বিশ্বাস জানান, এই সময় জলের স্তর কিছুটা নেমে যাওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়।

ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ তিন গ্রাম পঞ্চায়েত লাটাগুড়ি, রাজাডাঙ্গা ও ক্রান্তিতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার ক্ষমতা না বাড়ানোয় সেই পাম্প দিয়ে সব এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। মাল ব্লকের ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের জনসংখ্যা ৩০ হাজারের ওপর। ১৬টি সংসদ নিযে গঠিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংহভাগ এলাকাতেই পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের কোনো রিজার্ভার নেই গোটা পঞ্চায়েতে। শুধুমাত্র দুতিনটি জায়গায় পাম্পের সাহায্যে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। সেই পরিসেবা পান ক্রান্তি-ওদলাবাড়ি রাজ্য সড়কের পাশে থাকা কিছু গ্রামবাসী। একই দশা রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতেও। একটি পাম্প দিয়ে এখানকার কিছু এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। শুধুমাত্র লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কিছু এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের রিজার্ভার থেকে পাম্প দিয়ে পানীয় জল সরবরাহ হয়। তাও লাটাগুড়ি বাজার লাগোয়া পূর্ব লাটাগুড়িতে বেশ কযেবার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পানীয় জল খেয়ে আন্ত্রিকের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের দরজায় ঘুরেও ফল হয়নি। পানীয় জল নিযে এই ক্ষোভকেই নিজেদের হাতিয়ার করতে চলেছে বিজেপি।