জলপ্রকল্প তৈরি হয়েছে, তবু দূষিত জলই ভরসা ১২টি গ্রামের

264

সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর :  আট বছর আগে শুরু হয়েছিল জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ, চার বছর আগে সেই কাজ শেষও হয়ে গিয়েছে। তবু পরিস্রুত পানীয় জল জোটেনি মালিপাকড়, ডাহুয়া, পতাশী, বালাপাথার, শীতলপুর, ওয়াহেদপুর, মতিলাল, কুরসি, বোড়ল সহ হরিশ্চন্দ্রপুরের বারোটি গ্রামের বাসিন্দাদের। অগত্যা টিউবওয়েলের আয়রনযুক্ত ও পুকুরের দূষিত জলই পান করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চার বছর আগেই সম্পূর্ণ হয়ে গেছে জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ। কিন্তু এখনও অবধি মেলেনি পরিস্রুত জল। অথচ তার মধ্যেই কিছু জায়গায় ফেটে গিয়েছে পাইপ, আবার কোথাও চুরি হয়ে গিয়েছে পিএইচইর তরফে লাগানো কল। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মদলপাকুড় জল প্রকল্পের এমন অবহেলায় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, কিছু কিছু পাইপলাইনের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তাও কিছুদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এলাকার বাসিন্দা সুলতান চৌধুরি বলেন, ২০১১ সালে মদলপাকুড় ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের কাজ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ২০১৫ সালে। এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে  ওই অঞ্চলের দশ থেকে বারোটি গ্রাম। কিন্তু তবুও পরিস্রুত পানীয় জলের অভাবে ধুঁকছে এই গ্রামগুলি।

স্থানীয় বাসিন্দা হালিম মিয়াঁ বলেন, কৃষক, মজুর শ্রেণির মানুষদের ক্ষমতা নেই জল কিনে খাওয়ার। তাই পরিস্রুত পানীয় জল আনতে মালিপাকুড়ের বাসিন্দারা দুই কিমি হেঁটে যান দৌতলপুরের বেকারি মোড়ে। সেখান থেকে ব্যক্তিগত নলকূপ থেকে জল সংগ্রহ করেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, গ্রামগুলি খরাপ্রবণ। গরমের সময়ে জলের স্তর নেমে যাওয়ায় চূড়ান্ত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় শিক্ষক পশিমুদ্দিন আহমেদ জানান, ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকেই জলের স্তর নামতে শুরু করে। তখন এলাকাবাসীদের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে পুকুর আর ডোবার দূষিত জল। সেই জলেই চলে বাসন মাজা, কাপড় কাচা, স্নান থেকে শুরু করে গবাদিপশুদের স্নান। অপরিশোধিত ও দূষিত জল পেটে গিয়ে গ্রামবাসীরা বিভিন্ন অসুখে ভোগেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বিজলি সরকার জানালেন, নব্বই শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে আছে। কিন্তু পাইপলাইনের সমস্যার জন্য আমরা জল পাচ্ছি না। এখনও আমরা অপরিশোধিত জল খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। কর্তৃপক্ষকে এই নিয়ে আমরা অভিযোগ করেছি। তারা আশ্বাস দিয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা মিটে যাবে। দৌলতপুর পঞ্চায়েতের প্রধান তাফাজ্জুল হক বলেন, পুরোনো পাইপগুলোর পরিবর্তে নতুন পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। পিএইচইর ট্যাংকে জলের কানেকশনও হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি গ্রামবাসীরা জল পাবেন।

এপ্রসঙ্গে চাঁচল মহকুমার পিএইচইর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পঙ্কজ রায় জানান, পিডব্লিউডির রাস্তার নীচ দিয়ে হরাইজ্যান্টাল বিয়ারিংয়ের কাজ বাকি আছে। ওই বিয়ারিংয়ের কাজ হয়ে গেলে মেইন লাইনের সঙ্গে সাপ্লাই লাইন জুড়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া পাইপলাইন কমবেশি হওয়ায় কিছুটা সমস্যা আছে। জিআইএস ম্যাপিং-এর সাহায্যে য়েহেতু মাপজোখ হয়, তাই পরে জনবসতি বৃদ্ধি পেলে সেখান দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যেতে হয়। এইসব কারণে একটু দেরি হচ্ছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে সমস্যা মিটে যাবে।