আলিপুরদুয়ারের ভুটিয়াবস্তিতে জলসংকট, সমস্যা সমাধানের দাবি

364

শুভজিৎ পণ্ডিত, বারবিশা : কুমারগ্রাম ব্লকের ভুটান-ভারত সীমান্তঘেঁষা ভুটিয়াবস্তিতে জলসংকট চরম আকার নিয়েছে। জুলাই মাসের লাগাতার বৃষ্টির জেরে ভেঙে গিয়েছে ভুটান পাহাড় থেকে নেমে আসা পানীয় জলের পাইপ। এখন এলাকার পরিবারগুলির ভরসা জয়ন্তী নদীর জল। নদী খুঁড়ে জল বের করে পান করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কখনও তাও জোটে না। সেই জলও আবার ঘোলা। এই অবস্থায় পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছেন এলাকার ৩৩টি পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্তারা মাসখানেক আগে এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকার বাসিন্দারের দাবি, দ্রুত জলের পাইপ মেরামত করে পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত করা হোক। এলাকার বাসিন্দা অর্জুন ছেত্রী বলেন, এ বছর বর্ষার প্রথমদিকেই জলের পাইপ ভেঙে গিয়েছে। পাইপের কিছুটা অংশ হাতিও ভেঙে ফেলেছে। এতে এলাকায় জলের সমস্যা বেড়েছে। একই কথা জানান মুন্নি কুজুর, সুভাষ ছেত্রী, সোনু গোর সহ অন্যরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু জলের সমস্যাই নয়, ভুটিয়াবস্তি এলাকাটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এলাকায় নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে এলাকার ছোটো ছোটো ছেলেমেযে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এছাড়া চিকিৎসার জন্য জয়ন্তী নদী পার করে ২০ কিলোমিটার দূরে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে যেতে হয় বাসিন্দাদের। এখন নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পরিসেবা পেতেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁরা প্রশাসনের কাছে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সারজাহান সোনার বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই পাইপ ভেঙে যায়। কখনও আবার হাতি পাইপ ভেঙে দেয়। তখন আমরা জল পাই না। জল না থাকলে জয়ন্তী নদীর মাটি খুঁড়ে জল বের করে খেতে হয়। গ্রাম পঞ্চায়েতে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুমারগ্রামের বিডিও লাকপা শেরিং ভুটিয়া বলেন, যদি পিএইচই-র তৈরি করা পাইপলাইন ভেঙে গিয়ে থাকে তবে আমরা সেটা পিএইচই-কে জানাব। আর যদি ব্লক থেকে তৈরি করা জলের পাইপলাইন ভেঙে গিয়ে থাকে তাহলে সেটা আমরা খতিয়ে দেখে তৈরি করে দেব। আর ভুটিয়াবস্তিতে জমি পাওয়া গেলে আমরা সেখানে স্কুলের প্রস্তাব ওপরমহলে পাঠাব।  অন্যদিকে, তুরতুরিখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চন্দ্রিমা সিং বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ এখনও জানায়নি। ওই এলাকা পরিদর্শন করে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

- Advertisement -