কামাখ্যাগুড়িতে জলকষ্ট, ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

409

অরিন্দম চক্রবর্তী, কামাখ্যাগুড়ি : পানীয় জলের সমস্যায় জেরবার কামাখ্যাগুড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় পানীয় জলের প্রকল্প এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে তাঁদের বাধ্য হয়ে নলকূপ বা কুয়োর জলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়ে এলাকায় রয়েছে পশ্চিম চকচকা, তেলিপাড়া, দক্ষিণ নারারথলি ও পশ্চিম নারারথলি মৌজা। তারমধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিম নারারথলি এলাকার খোয়ারডাঙ্গায় পিএইচই-র কয়েটি টাইমকল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু মানুষ পানীয় জলের সুবিধা পান। কিন্তু ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সিংহভাগ মানুষই পরিস্রুত পানীয় জলের পরিসেবা থেকে বঞ্চিত। বাম আমলে এলাকায় বেশ কিছু রিগবোর টিউবওয়েল বসানো হলেও তার অধিকাংশই অকেজো হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ফলে, উপায় না থাকায় বাড়ির নলকূপ বা কুয়োর অপরিস্রুত আয়রনযুক্ত জল পান করছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

পশ্চিম নারারথলির বাসিন্দা শ্যামল রায় বলেন, আমাদের গ্রামে পরিস্রুত পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থাই নেই। কুয়ো বা নলকূপের জল খেয়ে সকলের পিপাসা মেটে। নলকূপ থেকে আয়রনযুক্ত জল মেলে। এর ফলে প্রায় সারাবছরই আমাদের পেটের সমস্যা লেগে থাকে। আর এক বাসিন্দা দেবাশিস রায় বলেন, পানীয় জলের সুবিধা থেকে বেশ কয়েকটি গ্রাম বঞ্চিত। নির্বাচন এলে শুধু প্রতিশ্রুতি মেলে কিন্তু পানীয় জলের সমস্যার সমাধান হয় না।  দক্ষিণ নারারথলির বাসিন্দা সাগর দত্ত বলেন, এলাকায় বেশ কয়েটি রিগবোর টিউবওয়েল অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেগুলি ঠিক করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা গেলেও পানীয় জলের সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে। এই বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। পানীয় জলের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আমরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে কামাখ্যাগুড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলেন ঠাকুর বলেন, এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এখানে পানীয় জলের প্রকল্প নেই। আমরা জেলাপরিষদকে বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি, পিএইচই দপ্তরেও বিষয়টি জানানো হবে। চলতি অর্থবর্ষেই গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় পরিস্রুত পানীয় জল পেঁছে দেওযার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি এতে পানীয় জলের সমস্যা অনেকটাই মিটবে।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মঞ্জুলা লামা বলেন, আমরা পঞ্চায়েত সমিতির তরফে ব্লকের বিভিন্ন এলাকার রিগবোর টিউবওয়েগুলির মেরামতি ও নতুন টিউবওয়ে বসানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও অন্যান্য সরকারি দপ্তর কাজগুলি করবে।