কাজিপাড়া-কোনাপাড়ার সেচনালায় জল মেলে না

250

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: সেচনালার মুখে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জল বেরিয়ে পড়ছে অন্য নালায়। ফলে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজিপাড়া ও কোনাপাড়া মহল্লাদুটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সেচনালায় জল মেলে না।

স্থানীয়দের ভরসা করতে হয় আরএলআই স্কিমের পাম্পসেট দ্বারা পাওয়া জলের ওপর। কিন্তু মহল্লার অনেক জায়গাতেই আবার ওই সুবিধা মেলে না। এদিকে সেচনালাতেও মিলছে না জল। ফলে প্রায় তিন দশক ধরে সমস্যায় ওই এলাকার কৃষকরা। কাজিপাড়ার বাসিন্দা কাজি গোলাম ফারুক বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সেচনালাটি কোনও কাজেই লাগছে না। কারণ আমাদের এলাকার ওই সেচনালায় বর্ষাকাল ছাড়া জল পাওয়া যায় না। ফলে শুখা মরশুমে চাষবাস করতে ভীষণ সমস্যা হয়।’

- Advertisement -

ছেকামারি ও রাঙ্গালিবাজনা চৌপথি এলাকার ঝোরা ও বৃষ্টির উদ্বৃত্ত জল মুন্সীপাড়ার একটি ক্যানালের মাধ্যমে এনে কাজিপাড়া, কোনাপাড়া মহল্লাদুটির সেচনালা দিয়ে প্রবাহিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু রায়পাড়ার কাছে দুলালটারিতে ওই সেচনালার মুখে অবস্থিত উঁচু বাঁধটি বহু বছর ধরেই ভাঙা থাকায় ওই অংশ দিয়ে জল বেরিয়ে ‌অপেক্ষাকৃত নীচু জমিতে অবস্থিত পাগলির জাম্পোই নামে অন্য একটি ক্যানালে গিয়ে পড়ছে। ফলে, কাজিপাড়া কোনাপাড়া মহল্লাদুটির মধ্য দিয়ে যাওয়া সেচনালাটিতে জল থাকছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এলাকারই কয়েকজন বাসিন্দা রাতের অন্ধকারে বাঁধটি কেটে দেন। এরপর থেকেই আর জল মিলছে না ওই দুই মহল্লার সেচনালায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় প্রায় সারাবছরই জল মিলত ওই সেচনালায়। সারা বছর জল থাকায় ওই সেচনালায় নানারকম মাছও মিলত। কিন্তু প্রায় তিন দশক ধরে জল মেলে না। অথচ, প্রতি বছর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ওই নালাটি সাফাই করার জন্য টাকা খরচ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ওই নালাটি সংস্কারের পিছনে টাকা খরচ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্যা মিলি বেগম বলেন, ‘ওই নালাটি চওড়া করার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করে ওভারফ্লো সিস্টেম করার চিন্তাভাবনা চলছে। এতে বাঁধটি কেউ কেটে দিতে পারবে না। যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে প্ল্যান এস্টিমেট করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’