নলকূপে আয়রনযুক্ত জল, সমস্যায় ভুগছে প্রাথমিকের পড়ুয়ারা

337

বড়দিঘি : মাল ব্লকের কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের দারোগাবস্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ারা প্রায় এক বছর ধরে পানীয় জলের সমস্যায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের  একমাত্র নলকূপ থেকে আয়রনযুক্ত জল বের হচ্ছে। পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই আয়রন মিশ্রিত জলই পড়ুয়ারা খাচ্ছে। এমনকি মিড-ডে মিলের রান্নার জন্যও ওই জলই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও স্কুলে রয়েছে বিবিধ পরিকাঠামোর সমস্যা। যে কারণে ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যাও কমছে।

কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকার ১৬৪ জন পড়ুয়া স্কুলটিতে যায়। স্কুলে শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন। পড়ুয়াদের অভিভাবকদের অধিকাংশই শ্রমিক অথবা জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করেন। স্কুল সূত্রে খবর, এক বছর ধরে স্কুলে একমাত্র নলকূপ থেকে আয়রনযুক্ত জল বের হচ্ছে। অভিযোগ, বিষয়টি লিখিতভাবে উপরমহলে জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। আরও জানা গিয়েছে, স্কুলে পাঁচিলেরও সমস্যা রয়েছে। এছাড়া স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষও দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। মিড-ডে মিলের ডাইনিং শেডও নেই। পরিকাঠামোর এই বেহাল দশার কারণে গত দুবছরে পড়ুয়ার সংখ্যাও অনেকটাই কমছে বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

নজরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। এলাকার এই স্কুলে বাচ্চারা আয়রনযুক্ত জল খাচ্ছে। ওই জল দিয়ে মিড-ডে মিলের রান্না হচ্ছে। শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক জানা সত্ত্বেও কী করে এমনটা চলছে?  অপর অভিভাবক তহিদুল ইসলাম বলেন, পড়ুয়ারা যাতে স্কুলে উন্নত পরিষেবা পায় সেটা দেখার দাযিত্ব প্রশাসনের। সেখানে গত এক বছর ধরে দূষিত জল খাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। অবিলম্বে পরিস্রুত পানীয় জল যাতে খুদেরা পায় সে বিষয়ে প্রশাসনের সদর্থক ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।  স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অমিত রায় বলেন, পরিকাঠামোর দিক দিয়ে স্কুলে কোনও সমস্যা না থাকলেও স্কুলের একমাত্র নলকূপ থেকে আয়রনযুক্ত জল বের হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে পড়ুয়াদের পাশাপাশি আমরাও সেই জলই খাচ্ছি। উপায় না থাকায় মিড-ডে মিলের রান্নাও সেই জল দিয়ে হচ্ছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানিয়েছি। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বাদশা আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমরা ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। পাশাপাশি স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতির বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরের নজরেও এনেছি। মালের বিডিও হাসিন জাহেরা রিজভি বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।