মানিকগঞ্জ : প্রায় তিন বছর আগে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায়  পানীয় জল সরবরাহের জন্য কাজ শুরু করেছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। প্রায় ৫ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করে সাতকুড়া বাজারে জলাধার তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনও সেই কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কাজে এমন ঢিলেমি চলার কারণে স্বভাবতই ক্ষোভে ফুঁসছেন বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা দ্রুত কাজটি শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতকুড়া, দইখাতা, নবাবলাইন, ভূজালিপাড়া, বিন্নাগুড়ি, গর্তেশ্বরী, ধরধরাপাড়া সহ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস।গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে খবর, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত যমুনানদীর পশ্চিম প্রান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে নির্মীয়মাণ জলাধার থেকে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা হবে।পূর্ব প্রান্তের এলাকা অনেক আগে থেকেই নলবাহিত পানীয় জলের আওতায় রয়েছে।এদিকে, ঠিকাদার সংস্থা না উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর কার গাফিলতিতে তিন বছরেও জল প্রকল্পের কাজ শেষ হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বিজেপির যুব নেতা মনি রায়ের অভিযোগ, ‘স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বেরুবাড়ির যমুনা নদীর পশ্চিম প্রান্তের এলাকায় নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই।আয়রন মিশ্রিত দূষিত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার মানুষজন। সেই দুর্ভোগের হাত থেকে নিস্তার পেতে সাতকুড়া বাজার এলাকায় জলাধার নির্মাণের কাজ শুরু হয়।কিন্তু তিন বছর পরেও কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে আজও পানীয় জল পরিসেবা থেকে বঞ্চিত বাসিন্দারা।’ আরেক বিজেপি নেতা হামিদার রহমান বলেন, ‘জলাধার নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।স্থানীয় নদীর বালি, উত্তরবঙ্গের সাদা পাথর, লোহার রড ব্যবহার করে জলাধারটি নির্মাণ করা হয়।এছাড়াও পাইপলাইন পাতার ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে।নিম্নমানের প্লাস্টিকের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।এলাকায় অনেক দূরে দূরে স্ট্যান্ড পোস্ট বসানো হয়েছে।এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছি।’

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর সূত্র খবর, জলাধার নির্মাণ, পাইপ বসানো, স্ট্যান্ড পোস্ট বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোলার সিস্টেম ও পাম্প বসানোর কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই এর উদ্বোধন করা হবে।উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শরদিন্দু রায় বলেন, ‘প্রকল্পে কিছুটা বদল করে উচ্চক্ষমতার পাম্প লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেই পাম্প বসাতেই কিছুটা দেরি হচ্ছে। আগামী বছরের শুরুতেই পরিসেবা চালু হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

ছবি-সাতকুড়া বাজার এলাকায় নির্মীয়মাণ জলাধার।

তথ্য ও ছবি- অমিতকুমার রায়