অর্ণব চক্রবর্তী, ফরাক্কা : নয় নয় করে আটটা বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ৯ হাজার গ্যালন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন জলাধার ব্যবহারের উপযোগী আর হয়ে ওঠেনি। এর ফল ভুগতে হচ্ছে ফরাক্কাপলাশী গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দাকে। এলাকায় পরিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের জন্য ২০১২ সালে ফরাক্কাপলাশীতে একটি বড় জলাধার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এত বছর পরেও তা অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মুর্তুজা শেখ বলেন, জলের লাইন হয়ে গিয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎও আছে। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ করলেই হয়ে যাবে। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে সেই কাজটাই হচ্ছে না। বহু টাকা খরচ করে জলাধারটি বানানো হয়েছিল, যাতে ফরাক্কাপলাশীর বাসিন্দারা পরিস্রুত পানীয় জল পান। কিন্তু আজও জলাধার চালু হয়নি। বেওয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনোরঞ্জন ঘোষ বলেন, গ্রামে জলের খুব সমস্যা আছে। যাঁদের অবস্থা সচ্ছল, তাঁরা বাড়িতে টিউবওয়েল বসিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু গরিব মানুষের অবস্থা শোচনীয়।

- Advertisement -

জল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা একবার নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর‌্যন্ত সেটা আর হয়ে ওঠেনি। ২০০৮ সালে জলাধারটি তৈরি হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বোরিং করে জল তুলে তা পাইপলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মূল রাস্তা বরাবর পাইপ যাবে এবং মোড়ে মোড়ে সেই জল পাওয়া যাবে। ধীরে ধীরে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়ারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেসময় ডিজেলের মাধ্যমে মোটর চালিয়ে পরিষেবা শুরু হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর আচমকাই জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে য়ায়।

বাদল রায় নামে এক গ্রামবাসীর বক্তব্য, বহুবার বিডিওকে বলেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। পলাশী ও রেল কলোনির মানুষ এই পরিষেবা আজও পাচ্ছেন না। শুধু বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে জলাধারটি চালু হচ্ছে না। ৭-৮ মাস আগে গ্রামে বিদ্যুৎ এসেছে। এবার জলাধার চালু করা উচিত। এ প্রসঙ্গে বিডিও রাজর্ষি চক্রবর্তী বলেন, লাইনের সংস্কার করতে হবে। জলাধারটি দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপাতত সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে এলাকার মানুষজন। কারণ, এগিয়ে আসছে গ্রীষ্মকাল। গরমের সময় ভূগর্ভস্থ জলস্তর অনেকটা নীচে নেমে যায়। এই জলাধারটি দ্রুত চালু হলে গরমে জলের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারবেন এলাকার মানুষজন।