মাধ্যমিকে জেলায় সম্ভাব্য সেরা ছাত্রী মেহবুবা ডাক্তার হতে চায়

481

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় জায়গা না পেলেও জেলায় মেয়েদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রথম স্থান অধিকার করেছে মেহবুবা আলি। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। মাধ্যমিকে আরও ভালো ফলের আশা করেছিল মেহবুবা। আগামীদিনে চিকিৎসক হয়ে সাধারন মানুষের সেবা করতে চায় সে।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখে তার কষ্ট হয়। তাই চিকিৎসক হয়ে গরীব মানুষের সেবা করে সেই আশা পূর্ণ করতে চায় সে। রায়গঞ্জের পশ্চিম কর্নজোড়া এলাকায় বাড়ি মেহবুবার। কর্ণজোড়া হাই স্কুলের ছাত্রী, এই স্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় মেহবুবা। তার সাফল্যে স্বভাবতই খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

- Advertisement -

মেয়ের সাফল্যে খুশি বাবা খুরশেদ আলি। তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া স্পিনিং মিলের কর্মী। বর্তমানে হেমতাবাদে অবর বিদ্যালয় কার্যালয়ে কর্মরত। দুই মেয়ের মধ্যে ছোটো মেহবুবা। বড় মেয়েও পড়াশোনা করে। তবে স্পিনিং মিলের কর্মী হিসাবে যে বেতন পান তিনি তা দিয়ে দুই মেয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসার কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।বাবা পড়াতে পারবেন কিনা সেই দুশ্চিন্তায় মেহবুবা পড়েছে।

ইতিমধ্যে রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত, মন্ত্রী গোলাম রব্বানী এবং সভাধিপতি কবিতা বর্মন সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি বিশেষ আগ্রহ তার। বাড়ির পাশে একটি বেসরকারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করার পর কর্নজোড়া হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভরতি হয়। প্রতিটি ক্লাসে বরাবরই প্রথম হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে।

যে কোনো বিষয়ের ওপর তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় যথেষ্ট পারদর্শি। বিদ্যালয় জীবনে প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান দখল করেছে সে। সেই ধারাকে বজায় রেখে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেও সাফল্য মিলেছে। তার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯২, অংকে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৭, জীবনবিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৮ এবং ভূগোলে ১০০। মেহবুবা জানায়, তার সাফল্যের পিছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্ততি নেবে সে।

কর্নজোড়া হাইস্কুলের টিআইসি পঞ্চব্রত কুন্ডু জানান, বরাবরই মেধাবী ছাত্রী মেহবুবা। এই স্কুলেই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করুক সে। গত বছর ওর দিদি এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পাস করেছে। ‘আমরা খুবই গর্বিত। আমরা চাই ও একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে গ্রামের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হোক।’